গুঞ্জন সত্যি হয়েছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ভারতের আই-লিগে খেলবেন ১২৯ বছরের প্রাচীন দল কলকাতা মোহামেডানের জার্সিতে। সামনের লিগে এশিয়ান কোটায় খেলবেন তিনি। অনেকদিন পর বাংলাদেশ থেকে কোনও ফুটবলারের ভারতে খেলার সুযোগ হয়েছে। এ নিয়ে লাল-সবুজ দলের অধিনায়কের উচ্ছ্বাস কম নয়। জামাল মনে করছেন, তার ভালো খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের আরও অনেক খেলোয়াড়ের দরজা উন্মুক্ত হবে।
আগামী ৭ নভেম্বর কলকাতায় যাওয়ার সময় কথা ছিল জামালের, তবে নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ শেষ করেই যাবেন তিনি। আজ (বৃহস্পতিবার) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আগে তো গুজব ছিল। তখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। পরবর্তীতে ওয়াসিম ভাইয়ের (ওয়াসিম আকরাম, কলকাতা মোহামেডান সচিব) সঙ্গে কথা হয়। ওয়াসিম ভাই জিজ্ঞেস করেছেন, ‘মোহামেডানে খেলবে কিনা? তোমাকে নোটিস করছি অনেকদিন ধরে।’ আমি বলেছি দল কেমন হবে? তখন সে বলেছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়বে। তখন আমি বলেছি, নিচের দিকে (পয়েন্ট টেবিলের) থাকার জন্য দল গড়লে খেলবো না। এখন নেপাল ম্যাচ শেষ করেই কলকাতায় যাব।’
কলকাতা মোহামেডানে পাঁচ মাসের জন্য যাবেন জামাল। আবার ঢাকায় এসে খেলবেন সাইফ স্পোর্টিংয়ে। সবকিছুই হচ্ছে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে। জামাল বললেন, ‘সাইফের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে আগে। সাইফ আমাকে ছাড়তে চায় না। চুক্তি অনুযায়ী আমি মোহামেডানে খেলবো পাঁচ মাসের জন্য। তারপর এসে সাইফে আবার যোগ দেবো। সমঝোতার মাধ্যমে হচ্ছে সবকিছু। এটা পূর্ণাঙ্গ পেতে দুই-তিন দিন সময় লাগবে। সবাই তো রাজি। এটা ভালো হচ্ছে যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে খেলতে যাচ্ছে।’
একসময় ইস্টবেঙ্গলে মোনেম মুন্না, রিজভী করিম রুমী, শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও গোলাম গাউসরা খেলেছেন। এছাড়া মোহনবাগানে আলফাজ আহমেদ, কলকাতা মোহামেডানে রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির, কায়সার হামিদ, মাহবুব হোসেন রক্সিদের খেলার সুযোগ হয়েছিল। এখন দীর্ঘদিন পর জামালের মাধ্যমে কলকাতার দুয়ার নতুন করে খুলতে শুরু করেছে।
জামাল নিজেও রোমাঞ্চিত, ‘বাংলাদেশ ও ভারতে খেলবো। যদি আমি ভারতে ভালো খেলতে পারি তাহলে অন্যদের জন্য দরজা খুলে যাবে। অন্যরা খেলার সুযোগ পাবে। আমি বাংলাদেশের দূত বা প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে খেলবো। আমাকে সেখানে ভালো করতে হবে। আশা করছি, সামনের দিকে আরও কিছু খেলোয়াড় সুযোগ পাবে।’
কঠোর পরিশ্রম করলে অনেক সময় সামনের দূয়ার খুলে যায়। জামালের উপলব্ধি, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে সুযোগ আছে। যদি আপনি কঠোর পরিশ্রম করেন তাহলে সুযোগ আসবে। সেখানে খেলার। তবে আন্তর্জাতিক খেলাতে ভালো করতে হবে। তাহলে সবাই দেখবে। ওরা দৃষ্টি দেবে। আমি সেভাবেই সুযোগ পেয়েছি। মোহামেডান শুধু দৃষ্টি দেয়নি। অন্যরাও খোঁজ-খবর নিয়েছে।’
জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডেও বিষয়টি দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে, ‘ওর (জামাল) জন্য ভালো সুযোগ। জামালের কারণে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য ভবিষ্যতে আরও সুযোগ তৈরি হবে। জামাল মোহামেডানে ভালো করতে পারবে ওর অভিজ্ঞতা দিয়ে।’








