একটা দলের লক্ষ্যই যখন থাকে আর যাই হোক গোল হতে দেওয়া যাবে না, গোলমুখে তালা মেরে রাখা ওই দলের বিপক্ষে খেলা এমনিতেই কঠিন হয়ে যায়। আর কোনোভাবে যদি দলটি এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে তো কথাই নেই! রক্ষণভাগে চীনের প্রাচীর দাঁড় করিয়ে সব আক্রমণ প্রতিহত করতে উঠেপড়ে লাগে। শনিবার রাতে কাদিজের অবস্থা ঠিক যেন তাই। বার্সেলোনা যতই গোলমুখে শট নিক না কেন, হয় গোলকিপার বাজপাখি হয়ে উঠলেন, কিংবা জমাট রক্ষণে পায়ে-গায়ে-বুকে লেগে বল প্রতিহত হয়েছে।
তাই লা লিগায় আরেকটি ‘কালো রাত’ সঙ্গী হয়ে গেছে বার্সেলোনায়। কাদিজের মাঠে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরলেও সেটা ধরে রাখতে পারেনি নিজেদের ভুলে। ক্লেমঁ লেংলে ও মার্ক-অ্যান্ড্রে টের স্টেগেনের ভুলে গোল হজম করে কাতালানরা হেরেছে ২-১ গোলে। ১৯৯১ সালের পর কাদিজের বিপক্ষে যেটি বার্সেলোনার প্রথম হার।
আক্রমণ কিংবা সুযোগ সৃষ্টি, সবই ছিল বার্সেলোনার খেলায়। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে খেই হারানোয় বৃথা গেছে সব চেষ্টা। অবশ্য কাদিজ গোলকিপারের কিছু দারুণ সেভও বাহবা পাবে। এবারই লা লিগায় ফেরা দলটির বিপক্ষে যে জেতা সহজ হবে না, সেটা জানা ছিল বার্সেলোনার। কেননা এই কাদিজই মৌসুমের প্রথম হার উপহার দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। কাতালানদের জন্যও দুর্গ গড়ে রেখেছিল রক্ষণে।
অথচ ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরাই। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বল ‘ক্লিয়ার’ করতে গিয়ে বার্সা ডিফেন্ডার অস্কার মিনগুয়েজার হেড করে ঠেলে দেন নিজেদের জালে। সেই বলে পা লাগিয়ে কাদিজকে এগিয়ে নেন আলভারো গিমেনেস। গোলশোধে মরিয়া বার্সেলোনা অনেক চেষ্টার পর পেদ্রো আলকালার আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরলেও মাত্র কয়েক মিনিট স্কোরলাইন ১-১ রাখতে পেরেছিল। কেননা আলভারো নেগ্রেদো মাঠে নামার ৪৪ সেকেন্ডে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন কাদিজের।
৬৩ মিনিটের এই গোলটিতে পূর্ণ অবদান বার্সেলোনার! কাদিজকে এগিয়ে নিতে নিজেরাই চেষ্টায় নেমেছিলেন। জোর্দি আলবা থ্রো-ইন বাড়িয়েছিলেন লেংলের দিকে, ফরাসি ডিফেন্ডার বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে টের স্টেগেন গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। আর এখানেই ভুলের মাশুল দিতে হলো বার্সেলোনার। খানিক সময় আগেই মাঠে নামা নেগ্রেদো বল পেয়ে ফাঁকা পোস্টে করেন লক্ষ্যভেদ।
লা লিগায় খারাপ সময় কিছুতেই কাটছে না বার্সেলোনার। যে দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিপক্ষদের গোলবন্যায় ভাসাচ্ছে, সেই তারাই ঘরোয়া ফুটবলে ব্যর্থতার তলানিতে। ভাবা যায়, ১০ ম্যাচ শেষে কাতালানদের পয়েন্ট মাত্র ১৪। যেখানে হেরেছেই ৪টিতে! প্রথম ১০ ম্যাচের হিসাবে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের পর এটাই সবচেয়ে বাজে শুরু বার্সেলোনার। অন্যদিকে ২০০৮ সালের পর প্রথমবার টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকার লজ্জা।
রোনাল্ড কোম্যানের বার্সেলোনা যে লা লিগায় ভালো নেই, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। পয়েন্ট টেবিলের সাত নম্বরে আছে এটা ঠিক, তবে শীর্ষস্থান ও রেলিগেশন অঞ্চল বিবেচনায় নিলে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে চিত্রটা। শীর্ষে থাকা আতলেতিকো থেকে ১২ পয়েন্টে পিছিয়ে, আর রেলিগেশন অঞ্চল থেকে ব্যবধান মাত্র ৩ পয়েন্টের।
গত মৌসুমে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর নতুন মৌসুমে পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমে আরও ছন্নছাড়া দল। বদলের জয়গানে উল্টো চিত্রই দেখতে হচ্ছে কাতালানদের। অগোছানো আক্রমণভাগ, ছন্নছাড়া মাঝমাঠ ও দুর্বল রক্ষণ মিলে লড়াইটা নিজেদের সঙ্গেই। এ যেন বড্ড অচেনা বার্সেলোনা!








