২০১৮ সালে ঘটনাবহুল এক ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেড ফেডারেশন কাপ জিতেছিল। ফাইনালে আকাশি-নীল জার্সিধারিরা আধিপত্য দেখিয়ে হারিয়েছিল বসুন্ধরা কিংসকে। সেই ম্যাচে মারামারি থেকে শুরু করে ছিল টান টান উত্তেজনা। পরের মৌসুমের ফেডারেশন কাপে অবশ্য দুই দলের দেখা হয়নি। এবার দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে আবারও। তবে ফাইনালে নয়, সেমিফাইনালে।
এর পরেও ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা কম নয়। কারণ আবাহনীর কাছে এবারের ফেডারেশন কাপ মানে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন। গতবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই মারিও লেমসের দলকে বিদায় নিতে হয়েছিল। সে জন্য এবার আঁটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছে নাবীব নেওয়াজ জীবন ও সাদ উদ্দিনরা।
তবে প্রতিপক্ষ দল দুটি কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই। দুই দলে রয়েছে দুজন করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। ফলে ফাইনালের লড়াইয়ে জয়ের নায়ক হতে পারেন যে কেউই! তবে পর্তুগিজ লেমস নিজের খেলোয়াড়দের প্রতিই আস্থা রাখছেন বেশি। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা ফাইনালে ওঠার জন্য প্রস্তুত আছি। আমাদের দল একটা পর্যায়ে আছে। দলের ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়রাও চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় আমরা ফাইনালে উঠতে পারবো। তবে ম্যাচটি সহজ হবে না।’
দলের নাম্বার নাইন ফার্নান্দো তোরেস কোয়ার্টার ফাইনালে গোল পেয়েছেন। মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তো ঢাকায় অভিষেকেই ঝলক দেখিয়েছেন। তাই তাদের ওপর ভরসা কম নয় লেমসের। এছাড়া প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে পারেন হাইতির কেরভেন্স বেলফোর্ট, জুয়েল রানা ও নাবীব নেওয়াজ জীবনরাও। লম্বা থ্রো-ইনের জন্য ডিফেন্ডার রায়হান হাসানও আগেই পরিচিতি পেয়েছেন।
তার পরেও সেটপিস নিয়ে বেশি করে ভাবতে হচ্ছে আবাহনীকে। লেমস তাই বলেছেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ব্রাজিলিয়ান তোরেস গোল পেয়েছেন। এটা আমাদের জন্য ভালো দিক। অগাস্তো প্রথম ম্যাচে খারাপ করেনি। এখন আসলে ফাইনালে উঠতে হলে যে করেই হোক আমাদের শতভাগ দিতে হবে। বিশেষ করে সেটপিস থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তা নাহলে আমরা ম্যাচ জিততে পারবো না। কোনওভাবেই আমাদের রক্ষণভাগে তাদের জায়গা দেওয়া চলবে না। এর জন্য সতর্ক থাকতে হবে বাদশা-রায়হানদের।’
বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনও মাঠে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। কঠিন ম্যাচ জিতেই ফাইনালে যেতে চাইছে তার দল। বিশেষ করে দুই ব্রাজিলিয়ান রবিনিয়ো ও ফেরনান্দেজ দলটির হয়ে দারুণ খেলছেন। এদের মাঝে আলাদা দৃষ্টি কেড়েছেন রবিনিয়ো। তবে ব্রুজন আস্থা রাখছেন সবার প্রতিই, ‘আমার দলের খেলোয়াড়রা তৈরি। ব্রাজিলিয়ান ছাড়াও যে কেউ গোল পেতে পারে। আবাহনী কঠিন প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ হবে। আমরা সেভাবেই মাঠে খেলবো। আশা করছি, আগের মতো ফাইনালে খেলতে পারবো।’
কাল বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালের ম্যাচটি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিকাল ৪টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।









