ঘরোয়া ফুটবলে এবার শুরু থেকে ছিল বাজে রেফারিং। রেফারিদের একের পর এক বাজে সিদ্ধান্তে ম্যাচের গতি-প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে দ্রুত। এতে করে অনেক ক্লাবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এর প্রধান ভুক্তভোগী ৬ বারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। ফেডারেশন কাপে বাজে রেফারিংয়ের শিকার হয়েছে তারা। যা নিয়ে তারা ক্ষোভও প্রকাশ করেছিল। অবশ্য ধারাবাহিকতায় প্রিমিয়ার লিগেও চলছে রেফারিদের ‘ভুল’ বাঁশি। এমন রেফারিং নিয়ে এবার আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমসও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন!
সাধারণত ৩৪ বছর বয়সী লেমস রেফারিং নিয়ে কোনও মন্তব্য করেন না। ম্যাচের ভিতরেই থেকেছেন সব সময়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এতই বাজে যে, এ নিয়ে বাধ্য হয়েই সোচ্চার হয়েছেন এই তরুণ কোচ।
আগের দিন শেখ জামালের সঙ্গে আবাহনী ড্র করেছে ২-২ গোলে। অথচ শেষ মিনিটে নাসির উদ্দীনের হেড জালে জড়ালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি। এছাড়া বক্সের ভিতরে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের হাতে বল লাগলেও তখন রেফারির বাঁশি বাজেনি।
লেমস তাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন,‘সাধারণত আমি রেফারিং কেমন হলো, এ নিয়ে কথা বলি না। কিন্তু এখন এমন অবস্থা যে, না বলে পারছি না। এই মৌসুমে রেফারিং মোটেও ভালো হচ্ছে না। আমি এখানে আছি তিন বছর ধরে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে এমন বাজে রেফারিং আগে দেখিনি। ঠিকঠাক ভাবে বাঁশি বাজছে না। যার কারণে আমাদের দল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চললে ভালো খেলেও তখন পয়েন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।’
পর্তুগিজ কোচ অবশ্য অনিচ্ছাকৃত ভুল এড়িয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। কিন্তু গণহারে এত ভুল সিদ্ধান্ত হলে সেটা নিয়েই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘একটি বা দুটি ম্যাচে হয়তো রেফারিরা ভুল করতে পারে। কিন্তু এই ভুল যদি ক্রমাগত চলতে থাকে, তাহলে কী বলার আছে। কিছু বলেও কোনও প্রতিকার মিলছে না। আমাদের জেতা ম্যাচ অনেক সময় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। অন্য ক্লাবও কম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। এভাবে হলে ভালো ফুটবল খেলাই যে কঠিন।’
তাই এক মৌসুম আগে আবাহনীকে এএফসি কাপের জোনাল সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া লেমস চলমান লিগ নিয়ে বেশ শঙ্কিত, ‘রেফারিরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব না পালন না করে, আমার মনে হয় না আমরা লিগ শিরোপা জিততে পারবো। এমনিতে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। তার ওপর রেফারিদের কারণে সামনে কী হবে, জানি না। এভাবে বাজে রেফারিং চলতে থাকলে লিগ শিরোপা জেতা সম্ভব না।’
প্রিমিয়ার লিগে বসুন্ধরা কিংস ৭ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। শেখ রাসেল ৭ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে টেবিলের তৃতীয় স্থানে। এক ম্যাচ কম খেলা শেখ জামালের পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। আবাহনী ১ পয়েন্ট কম নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে।









