এই দিনটি আসলেই ফুটবল প্রেমীদের মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। ১২ ফেব্রুয়ারির দিনটি যে দেশের ফুটবল নক্ষত্রের এক তারকাকে হারানোর দিন। এ দিনই প্রয়াত হয়েছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার মোনেম মুন্না। আজ ছিল তার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৫ সালের এই দিনটিতেই তিনি কিডনিজনিত জটিলতায় পরপারে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
তাই তো মুন্নার প্রয়ানের দিনটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনসহ তার জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জেও নানাভাবে স্মরণ করা হয়েছে। তাতে ছিল কোরআনখানি থেকে শুরু করে মিলাদ মাহফিল। এছাড়া শোক র্যালি বের করেছিল নারায়ণগঞ্জ সোনালি অতীত ক্লাব।
নারায়ণগঞ্জের সাবেক ফুটবলার আজমল হোসেন বিদ্যুত সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘মুন্না ভাই স্মরণে আমরা সকাল ১০ টায় শোক র্যালি বের করেছি। নারায়ণগঞ্জের বন্দর খেয়াঘাট থেকে এই র্যালি বের হয়েছে। মুন্না ভাইয়ের বাসায় কোরআনখানি হয়েছে। বন্দরেও মিলাদের আয়োজন করেছি। সবমিলিয়ে আমরা প্রতি বছরই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় প্রিয় মুন্না ভাইকে স্মরণ করি। যিনি ছিলেন আমাদের কাছে বড় আদর্শ ও অনুপ্রেরণা।’
মোনেম মুন্না ১৯৬৮ সালের ৯ জুন নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জন্মেছিলেন। ১৯৮২ সালে দ্বিতীয় বিভাগের দল শান্তিনগর দিয়ে তার ফুটবলে যাত্রা শুরু। মুক্তিযোদ্ধার হয়ে ১৯৮৬ সালে ব্রাদার্সে এক মৌসুম খেলেই আবাহনীতে যোগ দেন। এর পর আকাশি-নীল জার্সিতেই ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছিলেন। এর মধ্যে আবাহনীকে পাঁচবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও তিনটি ফেডারেশন কাপ জেতানোর রেকর্ড আছে তার।
১৯৯১ সালে মুন্না আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক পেয়েও আবাহনী ছাড়েননি। ২০ লাখ টাকায় থেকে যান প্রিয় ক্লাবেই। আবাহনীর প্রতি ছিল তার অসীম ভালোবাসা। আবাহনী ছাড়াও জাতীয় দলে ছিল তার সমান পদচারণা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ প্রথম ট্রফি জেতে মুন্নার হাত ধরেই। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি ফুটবলে জার্মান কোচ অটো ফিস্টারের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ফিস্টার মুন্নার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে তখন তো বলেই দিয়েছিলেন, ‘মুন্না ভুলবশত বাংলাদেশ জন্মগ্রহণ করেছে।’
শুধু দেশেই জনপ্রিয় ছিলেন না মুন্না। দেশের বাইরেও সুনাম অর্জন করেছিলেন। তখন ভারতের কলকাতায় ফুটবল ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। সেখানকার জনপ্রিয় ক্লাব ইস্ট বেঙ্গলে আমন্ত্রণ পেয়ে মুন্না সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। তখনকার সেই ক্লাবের কোচ নাইমুদ্দিন তো বাংলাদেশে কাজ করতে এসে মুন্নার উদহারণই টেনেছেন বারবার। সেই ক্লাবের বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম সেরা ছিলেন মুন্নাই।









