বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে যে গোলটি করলেন, তাতে আত্মবিশ্বাসের বেলুন উড়তে থাকে আরও উঁচুতে। মাঠের খেলোয়াড় তো বটেই, বার্সেলোনার কোটি ভক্তের হৃদয়ে নতুন আশার আলো জ্বেলে দিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই তিনিই আবার হতাশায় ডোবালেন কয়েক মিনিট পর পেনাল্টি মিস করে!
বাঁচা-মরার ম্যাচে মুদ্রার দুই পিঠ দেখে ফেললেন আর্জেন্টাইন তারকা। দলের সেরা খেলোয়াড়ের যখন এই অবস্থা, তখন বলার অপেক্ষা রাখে না ‘কোনও কিছুই অসম্ভব নয়’ ট্যাগে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় যে মিশনে নেমেছিল বার্সেলোনা, সেটি পূরণ হয়নি।
প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের বিপক্ষে অসম্ভব সমীকরণ মেলেনি তাদের। ঘরের মাঠের প্রথম লেগ ৪-১ গোলে হারায় পার্ক ডু প্রিন্সেসে অন্তত ৩-০ গোলে জিততে হতো বার্সেলোনার। ওই ব্যবধান তো দূরে থাক, পিএসজির মাঠ থেকে জিতেই ফিরতে পারেনি কাতালানরা। পিছিয়ে পড়ে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পিএসজি, সমান্তরালে ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে বার্সেলোনা। ২০০৭ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তিন বছর আগে এই পিএসজির বিপক্ষে প্রথম লেগ ৪-০ গোলে হেরেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বার্সেলোনা। আবারও সেই একই মঞ্চে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যখন লড়াই, তখন অতীত ইতিহাস আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছিল মেসিদের। পার্থক্য শুধু এবার ঘরের মাঠে ৪-১ গোলে হেরে দ্বিতীয় লেগ নামতে হয়েছে পিএসজির মাঠে। তবে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা এবার আর ভুল করেনি। বার্সাকে আটকে রেখে ড্রতে শেষ করেছে ম্যাচ এবং নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
পার্ক ডু প্রিন্সেসে সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়েছে বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণে কাঁপন ধরিয়েছে স্বাগতিকদের রক্ষণে। কিন্তু সুযোগ নষ্ট ও পিএসজির কড়া রক্ষণে গোলের দেখা পায়নি। বিশেষ করে, বাধার দেয়াল হয়ে ছিলেন ফরাসি ক্লাবটির গোলকিপার কেইলর নাভাস। কোস্টারিকান স্টপার নিশ্চিত তিনটি গোল বাঁচিয়েছেন। যার মধ্যে আছে মেসির পেনাল্টি সেভ।
বার্সার আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিপরীতে রক্ষণ ঠিক রেখে প্রতিআক্রমণ-নির্ভর ফুটবল খেলা পিএসজি সুযোগ পেলেই গতি বাড়িয়ে ভয় ধরিয়েছে সফরকারীদের রক্ষণে। তেমনই এক আক্রমণ থেকে পেনাল্টি পেয়ে যায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের সীমানায় ক্লেমঁ লেংলে ফাউল করেন মাউরো ইকার্দিকে। ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। ৩০ মিনিটে স্পট কিক থেকে দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করে পিএসজিকে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এমনিতেই ছিল কঠিন সমীকরণ, এর মধ্যে আবার আরেকটি গোল হজম করায় আশা একরকম শেষই হয়ে যায় বার্সেলোনার। কিন্তু ৩৭ মিনিটে বুলেট গতির শটে মেসির দুর্দান্ত গোলে আশার আলো জ্বলে ওঠে আবার। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ৩০ গজ দূর থেকে করা গোলটি ছিল দেখার মতো। কিন্তু ‘নায়ক’ মেসির ‘খলনায়ক’ হতে সময় লাগলো না। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লেভিন কুরজায়া নিজেদের সীমানায় আতোঁয়া গ্রিজমানকে ফাউল করলে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন নাভাস।
শুধু পেনাল্টি নয়, উসমান ডেম্বেলে, গ্রিজমান, লেংলেকেও হতাশ করেছেন কোস্টারিকান গোলকিপার। তার সঙ্গে বার্সেলোনার আক্রমণ প্রতিহত করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মারকিনুস ও আরেক সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার প্রেসনেল কিম্পেম্বে। তাই মেসি-গ্রিজমান-ডেম্বেলের আক্রমণ চূড়ান্ত সাফল্য পায়নি। ১-১ গোলের ড্রতে আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান হতাশায় শেষ হলো তাদের।









