সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফু্টবলে অন্যরকম এক দৃশ্য চোখে পড়ছে। ঘরোয়া ফুটবল মৌসুমে মাঠ মাতাচ্ছেন লাতিন আমেরিকান ফুটবলরা। এই দৃশ্য যে একেবারে নতুন, তা নয়। তবে গত কয়েক বছর সংখ্যাটা বেশি। এই লাতিন খেলোয়াড়দের বড় অংশ হলেন ব্রাজিলিয়ান। এবারের মৌসুমে নজর দিন। ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলছেন সাম্বার দেশের ছয় ফুটবলার। যেন বাংলাদেশে চলছে ব্রাজিল ফুটবল-বিপ্লব!
দেশের ঘরোয়া ফুটবলে সাধারণত আফ্রিকানদের দিকে ক্লাবগুলোর ঝোঁক একটু বেশি থাকে। এবার সেই ধারায় ছেদ পড়েছে। ব্রাজিলের ছন্দময় ফুটবলের সুর বেজে চলেছে রবিনিয়ো-তোরেস-অগাস্তোদের পারফরম্যান্সে।
বাংলাদেশে এখন খেলা ছয় ব্রাজিলিয়ান হলেন- আবাহনী লিমিটেডের ফ্রান্সিসকো তোরেস ও রাফায়েল অগাস্তো, বসুন্ধরা কিংসের রবিনিয়ো ও ফের্নান্দেস, চট্টগ্রাম আবাহনীর নিক্সন গুলের্মে এবং শেখ রাসেলের জিয়ানকার্লো লোপেজ।
বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের আলাদা মর্যাদা আছে। ব্রাজিল মানেই ছন্দময় ফুটবল। মাঠে ড্রিবল করে এগিয়ে যাওয়া। দৃষ্টিনন্দন গোল। মোহিত সবাই। যে কারণে বাংলাদেশে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের আধিক্যটা এবার একটু বেশি। জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমানে শেখ রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটুও মনে করছেন তাই, ‘আসলে বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কথা শুনলে চোখের সামনে ভেসে আসবে ছন্দময় খেলা। আমরাও চাই তাদের খেলোয়াড়দের পায়ে তেমন ফুটবল। সেই কারণেই মনে হয় এবার ঢাকার ফুটবলে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের বেশি দেখা গেছে। এছাড়া তারা এই দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এটাও একটা কারণ।’
তবে বর্তমানে ঢাকায় খেলার মধ্যে ফ্লুমিনেন্সে থেকে আসা রবিনিয়ো একটু ব্যতিক্রম। বসুন্ধরা কিংসের এই ফরোয়ার্ড পায়ের জাদুতে সবাইকে মোহিত করেছেন। প্লে-মেকার হিসেবে দুর্দান্ত খেলছেন। গোল করানোর পাশাপাশি নিজেও করছেন। প্রিমিয়ার লিগে ১২ গোল নিয়ে আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে।
এরপরই আছেন আবাহনীর ফ্রান্সিসকো তোরেস ও ও চট্টগ্রাম আবাহনীর নিক্সন গুলের্মে। দুজনেই করেছেন ৭ গোল। এছাড়া বসুন্ধরা কিংসের মিডফিল্ডার ফের্নন্দেস করেছেন ২ গোল। আবাহনীর আরেক মিডফিল্ডার অগাস্তো গোল করতে না পারলেও তার ফাইনাল পাস দেওয়ার সামর্থ্য অসাধারণ। মাঝমাঠের সেনানী বলতে হবে তাকে।
তবে সব ব্রাজিলিয়ান ভালো করছেন, ব্যাপারটা আবার এমনও নয়। বসুন্ধরা রবিনিয়ো ও ফের্নান্দেস আলো ছড়াচ্ছেন। আবাহনীর তোরেস গোল পেলেও সুযোগও নষ্ট করছেন। তবে চট্টগ্রাম আবাহনীর গুলের্মে ধারাবাহিক নন। যদিও চোটের আগে ভালোই করছিলেন এই স্ট্রাইকার। অন্যদিকে শেখ রাসেলের সাড়ে ৬ ফুটি লোপেজ তো নিজের ছায়া থাকতেই মনে হয় পছন্দ করছেন বেশি!
টিটু ব্রাজিলিয়ানদের মান পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘ভালো মানের খেলোয়াড় আনলে তো মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। রবিনিয়ো-ফের্নান্দেসরা ভালো মানের খেলোয়াড়। ব্রাজিলের ভালো জায়গায় খেলেছে। এখানেও তারা ভালো করছে।’
অন্যদের নিয়ে এই সাবেক ফুটবলারের মন্তব্য, ‘আবাহনী লিমিটেডের দুজনও খারাপ করছে না। বাকিরাও গড়পড়তায় খেলছে। আসলে ভালো পারিশ্রমিক দিলে তখন ভালো খেলোয়াড় দেখা যায়। এর প্রমাণ হলো রবিনিয়ো। ভালো পারিশ্রমিকের পাশাপাশি দেখেশুনে পরখ করে খেলোয়াড় আনতে পারলে তখন দর্শকরা লাতিন ছন্দময় ফুটবল দেখতে পাবে।’









