ইউরোপিয়ান ফুটবলে দলবদলের মৌসুম তো প্রতি বছরই আসে, তবে এরকম পরিস্থিতি নিকট অতীতে সম্ভবত আসেনি। সময়ের দু্ই সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দলবদলের আলোচনা একই মৌসুমে হচ্ছে। মেসি আশৈশবের ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে চলে গেছেন প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ে। আর গত কয়েকদিন চলছিল জুভেন্টাস ছেড়ে রোনালদোর ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়ার গুঞ্জন। তবে দলবদলের এই নাটকে নতুন মোড়। বিবিসির খবর, ম্যানসিটি নয়, সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যাচ্ছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
ইতালিয়ান মিডিয়ার খবর, রোনালদো তুরিন ছাড়ার অনুরোধ করেছেন জুভেন্টাসের কাছে। ওদিকে ব্রিটিশ মিডিয়া জানাচ্ছিল, পর্তুগিজ যুবরাজ যেতে চাইছেন ম্যানসিটিতে। এজন্য রোনালদোর এজেন্ট হোর্হে মেন্ডিস নাকি আলোচনাও বসেছিলেন ইতালিয়ান ক্লাবটির সঙ্গে। তবে টাকা-পয়সার দেনদরবারে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে বিবিসি জানিয়েছে, ম্যানসিটি দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পুরনো সৈন্যকে ঘরে ফেরানোর মিশনে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছে গেছে ম্যানইউ।
২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ম্যানইউয়ের জার্সিতে মাঠ মাতিয়েছেন রোনালদো। তার তারকা হয়ে ওঠাটাও ইংলিশ ক্লাবটিতে। এই ক্লাবের বর্তমান কোচ ওলে গানার সুলশারের সঙ্গে পর্তুগিজ উইঙ্গার খেলেছেনও। সাবেক সতীর্থের ম্যানইউয়ে ফেরার ব্যাপারে তার ইঙ্গিত ‘ইতিবাচক’। কারণ রোনালদোর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ফেরার সম্ভাবনা মোটেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
জুভন্টাস কোচ ম্যাসিমিলিয়ানে আলেগ্রি জানিয়েছেন, রোনালদো জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আর খেলতে চান না জুভেন্টাসের জার্সিতে। ওই খবরটা শুনে কিছুটা অবাক হয়েছেন সুলশার। আজ (শুক্রবার) সংবাদমাধ্যমকে ম্যানইউ কোচ বলেছেন, ‘আমি ভাবেইনি রোনালদো জুভেন্টাস ছাড়তে চাইবে। ও খুব ভালো করেই জানে ওর প্রতি আমাদের টান কতটা। যদি সে জুভেন্টাস ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায়, তাহলে ক্রিস্তিয়ানো ভালো করেই জানে আমরা আছি।’
অথচ পর্তুগিজ অধিনায়কের দলবদলে শোনা গেছে তাদের নগরপ্রতিপক্ষ ম্যানসিটির কথা। শনিবার আর্সেনালের বিপক্ষে মাঠে নামবে ম্যানসিটি। ওই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিটিজেনদের কোচ গার্দিওলা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেবেন রোনালদো নিজেই। এখানে ম্যানসিটি কিংবা তার ভূমিকা একেবারেই নেই। তাছাড়া বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথাও শুনিয়েছেন গার্দিওলা।
দলবদলের শুরু থেকে শোনা যাচ্ছিল, টটেনহাম স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে চাইছে ম্যানসিটি। ইংলিশ তারকাও নাকি যেতে আগ্রহী ম্যানচেস্টারে। যদিও সিদ্ধান্ত পাল্টে টটেনহামে থেকে যাচ্ছেন কেইন। নতুন মৌসুমের শুরুতে ম্যানসিটির স্ট্রাইকারের অভাব খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। তাই কেইনকে না পাওয়ায় রোনালদোর দিকে তারা হাত বাড়িয়েছে বলে খবর ছিল বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ পত্রিকার।
যদিও গার্দিওলা বলছেন, ‘আমি বেশি কিছু বলবো না। হ্যারি কেইন তার ক্লাবেই খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, টটেনহামের মতো অসাধারণ এক ক্লাবে। ক্রিস্তিয়ানো জুভেন্টাসের খেলোয়াড় ছিল, আমার মনে হয় সে জুভেন্টাসেরই খেলোয়াড়। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না।’
মেসি পিএসজিতে গিয়েছেন। রোনালদো বেশ কয়েকবার ক্লাব পরিবর্তন করেছেন। এই ধাঁচের খেলোয়াড়রা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিয়ে থাকেন বলে মত গার্দিওলার। তাই ম্যানসিটির নাম জড়িয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও বল রোনালদোর কোর্টেই ফেললেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই কোচ, ‘দলবদলের জানালা বন্ধ হওয়ার তিন-চার দিন আগে আমি শুধু এতটুকই বলতে পারি যেকোনও কিছু হতে পারে। তবে আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় এই ধরনের খেলোয়াড়, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে অবশ্যই মেসিকে যোগ করছি, এরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে কোথায় খেলবে।’
তাহলে কি রোনালদো ম্যানসিটিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? আবারও গার্দিওলা শোনলেন একই কথা, ‘ক্রিস্তিয়ানো নিজেই ঠিক করবে কোথায় সে খেলতে চায়, সিদ্ধান্তটা আমার কিংবা ম্যানচেস্টার সিটির নয়।’









