সাফের পর আরও একটি ব্যর্থতা। ঘরের মাঠে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের সেমিফাইনালের খেলায় বাহরাইনের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ফলে সাফের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার মিশনেও ব্যর্থ হলো মারুফুল হকের শিষ্যরা। কাল মালদ্বীপ-নেপাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের সঙ্গে শুক্রবার ফাইনালে খেলবে বাহরাইন।
এদিন কোচ মারুফুল হক দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ লাইন আপে। গত দুটি ম্যাচে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা ইনজুরির কারণে একাদশে ঠাঁই পাননি। ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবনের পরিবর্তে নামানো হয় মিডফিল্ডার মিঠুন চৌধুরীকে।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। ডান প্রান্তে হেমন্ত ভিনসেন্ট, বাম প্রান্তে কখনও মোনায়েম খান রাজু কখনও মিঠুন চৌধুরী ক্রমাগত হানা দেন বাহরাইন রক্ষণ দূর্গে, তবে গোল অধরাই রয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য।
২৪ মিনিটে হেমন্ত ভেদ করেছিলেন বাহরাইনি ডিফেন্স, করেছিলেন চমৎকার একটা কাট ব্যাক। কিন্তু শাখাওয়াত রনি ও মিঠুন কেউই বল প্লেস করতে পারেননি। ৩৪ মিনিটে বাহরাইনি ডিফেন্সের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে ওঠে রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো-ইন। বল ডিফেন্ডার ইয়াসিন খানের মাথা ছুঁয়ে এসে পড়েছিল মিঠুন চৌধুরীর সামনে। মিঠুন হেড করতে পারলে হয়তো গোলের দেখা পেত বাংলাদেশ, কিন্তু মিঠুন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হন।
উল্টো বিরতির আগে গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা একটি ক্রস ফিস্ট করতে পজিশন থেকে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক সোহেল। সাম্প্রতিক সময়ে বাতাসে বলের গতিপথ সঠিকভাবে যাচাই করার যে দুর্বলতায় তিনি ভুগছেন পুনরায় সেটার পুনরাবৃত্তি করেন সোহেল। বল ফিস্ট করতে না পেরে কোনওরকমে হাত দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করেন তিনি। বল এসে পড়ে বাহরাইনি মিডফিল্ডার ইব্রাহিম আলহুতির মাথায়। তিনি হেড করে সোহেলের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ধারা অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। ৫২ মিনিটে সাইড বারে লেগে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের সমতায় ফেরার সুযোগ। মিঠুন চৌধুরীর নিচু ক্রসে হেড করেছিলেন সাখাওয়াত রনি। পরাস্ত হয়েছিলেন বাহরাইনি গোলরক্ষক মাহবুব আল দোসারিও। কিন্তু বল সাইডপোস্টে আঘাত করে উড়ে আসে দোসারির গ্লাভসে।
এর পরের মিনিটেই আবারও দীর্ঘশ্বাসের পালা বাংলাদেশের। মাঝমাঠ থেকে বল ভাসিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। হেড করেছিলেন রনি, সাইডপোস্টের পাশ দিয়ে বল চলে যায় বাইরে। কোচ মারুফ তিনটি পরিবর্তন আনেন। অধিনায়ক মামুনুলকেও তুলে নেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বল দখলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলে গোল আর হয়নি। বাহরাইনি গোলরক্ষক আল দোসারির কাছে অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকবে তার দল। পুরো ম্যাচে তার গ্লাভস ছিল নির্ভরতার প্রতীক। তার দু হাতের কাছে বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
/আরএম/এমআর/








