বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য বলতে হবে। টানা দুইটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কাছাকাছি থেকেও নক আউট পর্বে যাওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে ঢাকায় নেপালের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। আর সবশেষ মালেতে নেপালের সঙ্গে ড্র করেই ফাইনাল-বঞ্চিত হতে হয়েছে। এবার অবশ্য চার জাতি প্রতিযোগিতায় ফাইনালে উঠতে বাধা নেপাল নয়, শ্রীলঙ্কা। রবিন লিগের শেষ ম্যাচে এক পয়েন্ট পেলেই কাঙ্ক্ষিত ফাইনালটা খেলতে পারবে। তাই এবার বিদায়ের পুনরাবৃত্তি না করে নতুন ইতিহাসই করতে চাইছে জামাল ভূঁইয়ারা। কলম্বোর রেসকোর্স মাঠে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।
মাহিন্দ্রা রাজাপাকসে প্রতিযোগিতায় দুই ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে শ্রীলঙ্কার অর্জন ১। রেসকোর্স মাঠে বাংলাদেশের ফাইনালে খেলতে হলে এক পয়েন্টই যথেষ্ট। বিপরীতে স্বাগতিকদের জিতলেই হবে না, হেড টু হেড কিংবা গোল পার্থক্য সহ অন্য সমীকরণের ওপরও নির্ভর করতে হবে। যদিও এর মধ্যে সেশেলস-মালদ্বীপ ম্যাচের মধ্যে কোন দল ফাইনালে যাবে তা নির্ধারণ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ অবশ্য ড্রয়ের জন্য খেলবে না। নিজেদের স্বভাবসুলভ খেলা চালিয়ে জয়ের জন্যই মাঠে নামবে। আগের ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে যেমন পারফরম্যান্স ছিল, তারই ধারাবাহিকতা রাখতে চাইছে। যদিও গোল করে তা পরে ধরে রাখতে না পারার সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের। আগের দুই ম্যাচেই আলগা হয়ে পড়েছিল রক্ষণ।
এবার তা হতে দিতে চাইছেন না পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। রক্ষণ জমাট রেখে এগিয়ে যাওয়ার পণ। সেভাবে পরিকল্পনাও এটেঁছেন। তবে এই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হলে গোল করতে হবে। সেজন্য ফরোয়ার্ডদেরও বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হবে। সুযোগ পেলেই বল জালে জড়াতে হবে সুমন রেজা-রাকিবদের।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের চেয়ে ১৭ ধাপ এগিয়ে আছে। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন করতে হবে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে অবশ্য সাম্প্রতিক রেকর্ডও বাংলাদেশের পক্ষে। মালে অনুষ্ঠিত সাফে ১-০ কিংবা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ২-০ গোলে জয় এসেছিল। ২০১৮ সালে নীলফামারীতে বাংলাদেশ সবশেষ হেরেছিল ১-০ ব্যবধানে।
অতীত পরিসংখ্যান ভেবেই এবার জয়ের ধারাবাহিতকা ধরে রাখার মিশন। যদিও শ্রীলঙ্কা চাইবে নিজেদের মাঠে যে করেই হোক জয় নিশ্চিত করতে। এখন মাঠের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ তাদের রুখতে পারলেই হয়।









