২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতদের স্মৃতির প্রতি বঙ্গবন্ধু গোল কাপের শিরোপা উৎসর্গ করেছে নেপাল। স্মরণকালের ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পে সাত হাজারেরও বেশি নেপালি নিহত হয়েছিল।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বালগোপাল মহারজন বলেন, 'এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশের নয়। শিরোপা জয়ের জন্য ঢাকায় আসিনি। এসেছিলাম এসএ গেমসের প্রস্তুতি নিতে। পরে যশোরে নেমে গ্রুপ দেখে মনে হল সেমিফাইনাল খেলা উচিত। সেই থেকে সেমিফাইনালই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জন করার পর যখন ফাইনালে পৌঁছলাম, আমরা আলোচনা করেছি শিরোপার এত কাছে এসে খালি হাতে দেশে ফিরব না।'
তিনি বলেন, '২৩ বছর পর শিরোপা জিতে আমরা যারপরনাই আনন্দিত। এই ট্রফি ২০১৫ সালের এপ্রিলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত নেপালিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি। আর আশা করি এই সাফল্য নেপাল ফুটবলের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সহায়ক হবে।'
১৯৯৩ সালে খেলোয়াড় হিসেবে সাফ গেমস স্বর্ণ পদক জিতেছিলেন বালগোপাল মহারজন। ২০১৬ সালে এসে জিতলেন কোচ হিসেবে। এ বিষয়ে নেপালি কোচ বলেন, 'কোচ হিসেবে জেতাটাই বোধ হয় বেশি কঠিন। এখানে শুধু নিজের ব্যাপার নয়, পুরো দলের শারীরিক মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো দেখতে হয়। খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে নিয়েই বেশি চিন্তা করতে হয়।'
১৯৯৩ সালেও দেশি কোচের অধীনে শিরোপা জিতেছিল নেপাল। এবার আরেক নেপালি তাদেরকে শিরোপা উপহার দিলেন। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'বিদেশি কোচরা বিগত বছরগুলোতে সাফল্য দিতে পারেনি নেপালকে। দেশি কোচরাই সাফল্য দিলেন। তাই আমার মনে হয়। সবার উচিৎ দেশি কোচদেরকেই প্রস্তুত করা'
টুর্নামেন্ট সেরা নবযুগ শ্রেষ্ঠা দলের ঐক্যকে মূল চালিকাশক্তি বলে মনে করেন। তিনি বলেন, 'আমরা নবীন। কিন্তু সবসময় চেয়েছি সেরা নৈপুণ্য দিয়ে দেশ ও দলকে সাফল্য দিতে। এটি আমাদের প্রেরণা। এবং এটি আমাদেরকে চ্যাম্পিয়ন করেছে।'
শিরোপা জয়ের পর নেপাল দলের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে অল নেপাল ফুটবল এসোসিয়েশেন। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫ লাখ রুপি করে অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে নেপাল ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
/আরএম/এমআর/








