শক্তির দিক থেকে শেখ রাসেলের কাছাকাছিও নেই রহমতগঞ্জ। কিন্তু নক-আউট পর্বের ম্যাচে তাদের চোখে চোখ রেখে খেলেছে পুরনো ঢাকার দলটি। শুধু তাই নয় ৭ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে রহমতগঞ্জ। সোমবার (৩ জানুয়ারি) কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো খেলায় ৪-৩ গোলের জয়ে সেমিতে পৌঁছেছে তারা।
এদিন খেলার শুরুতে রহমতগঞ্জ দুই গোলে এগিয়ে ব্যাকফুটে ফেলে দেয় শেখ রাসেলকে। বিরতির পর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসে তিন গোল করে সাইফুল বারী টিটুর দল। এরপরও পাল্টালো ম্যাচের রং। সমতা ফেরায় রহমতগঞ্জ। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ( ১১৮ মিনিট) খন্দকার আশরাফুল ইসলামের জয়সূচক গোলে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে রহমতগঞ্জ।
খেলা শুরুর ২৮ মিনিটে রহমতগঞ্জ প্রথমে এগিয়ে যায়।মাঝ মাঠ থেকে সানডে চিজোবার থ্রু ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন ফিলিপ আজাহ তেতাই। পিছনে ছোটা শেখ রাসেলের দুই ডিফেন্ডারকে গতিতে পেছনে ফেলে ডান পায়ের জোরালো কোনাকুনি শটে গোলকিপার আশরাফুল রানাকে পরাস্ত করেন এই ঘানার স্ট্রাইকার।
৪৩ মিনিটে তিন বার চেষ্টা করেও ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারেনি রহমতগঞ্জ। পরের মিনিটে শেখ রাসেলের ডিফেন্ডার রহমতের ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফেরার পর পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় গোলাম জিলানির দল। ওয়ালী ফয়সালের পাসে তেতাই গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা সাদউদ্দিনের বাধা পেরিয়ে বুলেট গতির শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
বিরতির পরও রহমতগঞ্জ সুযোগ পায়। হ্যাটট্রিক মিস করেন নাইজেরিয়ান তেতাই। ৫২ মিনিটে বক্সে তেতাই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় রহমতগঞ্জ। কিন্তু এই স্ট্রাইকারের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি রানা।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে শেখ রাসেল। পরপর তিন গোল আদায়ও করে নেয় তারা। ৬৩ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার থিয়াগো এদোয়ার্দো ৩০ গজ দূর থেকে কাছের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। উজ্জীবিত শেখ রাসেলের আক্রমণে আরও তেজ বাড়ে।
৮০ মিনিটে ইমানুয়েল রুটি তাবারেজকে বক্সে সিওভুস আসরোরভ ফাউল করলে পেনাল্টি পায় শেখ রাসেল। কিরগিজস্তানের ডিফেন্ডার আইজার আখমেদভের বুলেট গতির স্পট কিক ফেরানোর চেষ্টা করারও সুযোগ পাননি গোলরক্ষক রকিবুল হাসান তুষার।
চার মিনিট পর এসমায়েল রুটি তাবারেজের পাস ধরে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকোনি শটে শেখ রাসেলকে ৩-২ স্কোরলাইনে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এইলতন মাচাদো। গোলের উদযাপনে জার্সি খোলার কারণে হলুদ কার্ডও দেখতে হয়েছে তাকে।
ম্যাচে তখনও উত্তেজনা কমেনি। ৮৯ মিনিটে রহমতগঞ্জ ৩-৩ স্কোরলাইন করে। সানডে চিজোবা লক্ষ্যভেদ করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান। সেখানে জয় হয়েছে সানডে-আশরাফুলদেরই।








