এই মৌসুমে আবাহনীর পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য। স্বাধীনতা কাপের ট্রফি জিতেছে অনেক দিন পর। মারিও লেমসের দলের সামনে এবার ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি। কাল বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে সাইফ স্পোর্টিংকে হারাতে পারলে ২০১৮ সালের পর আবারও ট্রফি জয়ের মঞ্চে জায়গা করে নেবে দানিয়েল কলিনদ্রেস-নাবীব নেওয়াজ জীবনরা। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাত ৭টায় হবে এই ম্যাচ।
সেমির প্রতিপক্ষ সাইফ স্পোর্টিং হওয়ায় একটু বেশিই আত্মবিশ্বাস পাওয়ার কথা আবাহনীর। সর্বশেষ স্বাধীনতা কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাইফকে ২-০ গোলে হারানোর স্মৃতি এখনও অম্লান। তাই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে খুব বেশি ভাবতে হচ্ছে না আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ লেমসকে। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘সাইফকে আগে হারিয়েছি, এবারও হারাতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই দল মাঠে নামবে। আশা করছি আমরা ফাইনালে খেলতে পারবো।’
সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালের ফলটাও আবাহনীকে উঁচুতে রাখছে। শেখ জামালকে ৬ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা। তবে বড় জয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই দল। লেমসের কথাতেই তা পরিষ্কার, ‘সবসময় বড় ব্যবধানে জয় আসে না। আগের ম্যাচ জিতেছি, যা এখন অতীত। সেমিতে ব্যবধান যাই থাকুক না কেন জয়টাই মুখ্য। তবে সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল পেতে হবে। তা না হলে জেতা কঠিন হয়ে যাবে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে আবাহনীর বিদেশিদের রসায়নও চমৎকার। কলিনদ্রেস-অগাস্তো-দোরিয়েন্তন দারুণ খেলছেন। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন তো চার গোল করে সবার ওপরে আছেন। যদিও এই ম্যাচে চোটের কারণে তার খেলা কিছুটা অনিশ্চিত। সেক্ষেত্রে নাবীব নেওয়াজ জীবনকে দেখা যেতে পারে। তারপরেও লেমস সবার ওপরই ভরসা রাখতে চাইছেন, ‘আমার দলে সবাই নিজের সেরাটা দিয়ে খেলছে। দলে যেই খেলুক না কেন, ভালো খেলার কোনও বিকল্প নেই। আমি চাই আগের মতো সপ্রতিভ পারফরম্যান্স। তাহলে দলের ফাইনালে উঠতে সুবিধা হবে।’
সাইফের পূর্ববর্তী ফল সন্তোষজনক নয়। তাই বলে এমফন উদোহ-ফয়সাল আহমেদ ফাহিমেদের নিয়ে গড়া দলটির ফরোয়ার্ড জোনকে কম শক্তিশালী ভাবলে ভুল হবে। দলে রয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। লেমস তাই সতর্কও থাকছেন, ‘প্রতিপক্ষকে হালকা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। আর্জেন্টিনার কোচের অধীনে ওরা ভালো করছে। তাই আমাদের সেভাবেই মাঠে খেলতে হবে।’
২০০৭ সালে আবাহনী লিমিটেডের কোচ হয়ে ডাগ আউটে থাকা ক্রুসিয়ানি অবশ্য এই ম্যাচ নিয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। শুধু বলেছেন, ‘আবাহনী শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে এবারও সহজ ম্যাচ হবে না। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে।’
একই দিন বিকাল ৪টায় আরেক ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং লড়বে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে। হয়তো ফাইনালে দেখা হয়ে যেতে পারে একসময়ের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। সাদা-কালো দলটির অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেন চাইছেন দীর্ঘদিন পর দলকে ফাইনালে নিয়ে যেতে। অন্যদিকে, পুরনো ঢাকার দলটি চাইছে নতুন চমক দেখাতে।









