আবাহনীর ফেডারেশন কাপের ফাইনালে পৌঁছাতে অবদান ছিল গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেলের। টাইব্রেকারে সাইফ স্পোর্টিংয়ের পঞ্চম শট রুখে দিয়েই তো স্কোর লাইন ৪-৩ রাখতে পেরেছিলেন। তা না হলে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের অপেক্ষা করতে হতো পঞ্চম শট পর্যন্ত। কিন্তু শহীদুল বীরত্বে ম্যাচটা আগেই জেতা হয়ে যায় আবাহনীর। দলকে এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতিয়ে শহীদুলের উচ্ছ্বাসের কমতি থাকার কথা নয়। তবে তাকে সবচেয়ে অবাক করার মতো মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন কোস্টারিকার ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিনদ্রেস! নিজে ম্যাচসেরা হয়েও সেটি তুলে দিয়েছেন শহীদুলের হাতে!
ম্যাচজুড়েই উত্তেজনা ছিল চরমে। আর সেটি বজায় রাখতে শুরুতে আশার সলতে জ্বালিয়ে দেন শহীদুল। প্রথমে টাইব্রেকারে রুয়ান্ডার ডিফেন্ডার এমেরি বেইসেঙ্গের শট ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর চরম উত্তেজনার মাঝে জামালের শট একইভাবে প্রতিহত করে পুরো কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামেই আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন তিনি।
শহীদুলও আত্মবিশাসী ছিলেন দলকে পঞ্চম শট নিতে দেবেন না। জামালের শট রুখে দিয়েই ম্যাচের ভাগ্য নিষ্পত্তি করবেন। শুক্রবার বিকালে অনুশীলনের আগে বাংলা ট্রিবিউনকে এই গোলকিপার বলেছেন, ‘আসলে সেই সময় চরম উত্তেজনা চলছিল। আগেই বেইসেঙ্গের শট রুখে দিয়েছি। জামালের শট ফেরাতে পারলে দল জিতে যাবে- এমন মুহূর্ত পেয়ে সেকেন্ডের পার্থক্যে বুঝে যাই ও (জামাল) কোন দিকে বল মারছে। সেদিকেই ঝাঁপিয়ে পড়ি। আসলে কোনোভাবে আত্মবিশ্বাসের কমতি ছিল না।’
সাইফের বিপক্ষে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন চোটের কারণে ছিল না। কৌশলী মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তোকেও চোট নিয়ে একপর্যায়ে উঠে যেতে হয়েছে। তাই কিছুটা চাপে ছিল আবাহনী। ২০০৮ সাল থেকে আবাহনীতে খেলা শহীদুল তাই বলেছেন, ‘ম্যাচটিতে পরতে পরতে উত্তেজনা ছিল। চোটের কারণে ব্রাজিলিয়ানরা খেলতে পারেনি। টাইব্রেকারে চাপটা বেশি ছিল। কিন্তু চাপে ভেঙে পড়িনি। সবাই বেশ উৎসাহ দিয়েছেন, সফলও হয়েছি।’
১২০ মিনিটের ম্যাচে ৩-৩ গোলে সমতা ছিল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী হয়েছে আবাহনী লিমিটেড। তাতে ২০১৮ সালের পর আবারও ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। ম্যাচে কোস্টারিকার ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিনদ্রেসও চমৎকার খেলেছেন। গোল করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়িয়েছেন। সেই কলিনদ্রেস-ই ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়ে সেটি তুলে দেন শহীদুলের হাতে। ওই মুহূর্ত নিয়ে শহীদুল বলেছেন, ‘কলিনদ্রেস এই ম্যাচে ভালো খেলেছে। তাই ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছে। পরে সেটি আমার হাতেই তুলে দিয়েছে। আসলে ও অনেক উদার। হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে বলেছে, এই পুরস্কার আমার হাতেই মানায়।’








