বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রথম খেললো ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেড। এই ভেন্যুর প্রথম ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছে মারিও লেমসের দল। আজ (শুক্রবার) প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে হারিয়ে দিয়েছে শক্তিশালী শেখ রাসেলকে। দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আকাশি-নীলেরা।
আগের তিন ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তল গোল পেয়েছিলেন। এই ম্যাচে ৩১ বছর বয়সী তারকা চেষ্টা করেও গোলের দেখা পাননি। লিগে প্রথম গোল পেয়েছেন জুয়েল রানা, মিলাদ শেখ সোলায়মানি ও নাবীব নেওয়াজ জীবন। এই ত্রয়ীই লক্ষ্যভেদে ৪ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আবাহনী। সমান ম্যাচে শেখ রাসেল প্রথম হারে আগের ৫ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে।
লিগের চতুর্থ ম্যাচে একটি পরিবর্তন রেখে মাঠে নামে আবাহনী। ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশার জায়গায় সুযোগ পান রেজাউল করিম। প্রথমার্ধের শুরুর দিকে অবশ্য শেখ রাসেল নিজেদের মাঠে গোলের সুযোগ আগে পেয়েছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।
ম্যাচ ঘড়ির ১৩ মিনিটে ইসমাইল রুতির ভাসানো ক্রসটি গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল হাত দিয়ে কোনোমতে ক্লিয়ার করেন। অন্য প্রান্তে মান্নাফ রাব্বি পেলে হয়তো সুযোগ ছিল।
৬ মিনিট পর সতীর্থের ক্রসে বক্সের ভেতরে থিয়াগো আমারাল জোরালো সাইড ভলি নিলেও দূরের পোস্ট দিয়ে যায়। একটু গুছিয়ে নিয়ে আবাহনী পরের ৫ মিনিটে আক্রমণের ঢেউ তোলে। প্রথম বলার মতো আক্রমণ হেনেছে ২২ মিনিটে। কলিনদ্রেসের কর্নার থেকে নেওয়া শট গোলকিপার রানা প্রতিহত করেন। একটু পর কলিনদ্রেসের ওভারহেড কিক হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। ২৪ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে জীবনের ক্রসে দোরিয়েন্তনের হেড গোলকিপার রানা একটু লাফিয়ে উঠে তালুবন্দি করেন। ২৭ মিনিটে মিলাদের শট ফিরে এলে ফিরতি বলে দোরিয়েন্তলের কাছ থেকে নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবাহনীর আরও দুটো গোলের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জীবনের ডান পায়ের জোরালো শট দূরের পোস্ট দিয়ে যায়। দুই মিনিট পর দোরিয়েন্তলের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে অফসাইডের বাঁশি বেজে উঠতে সময় লাগেনি।
বিরতির পর আবাহনীর দাপট চলতে থাকে। এই অর্ধে গোল পেতে সময় লাগেনি। ৫০ মিনিটে এগিয়ে যায় আকাশি-নীলেরা। কলিনদ্রেসের কর্নারে দোরিয়েন্তলের মাথা ছুঁইয়ে দেওয়া বলে অন্য প্রান্তে জুয়েল রানা দৌড়ে এসে কাছের পোস্ট দিয়ে হেডেই গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানাকে পরাস্ত করেন।
৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বক্সের বাইরে থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে জোরালো শটে জাল কাঁপান ইরানের ডিফেন্ডার মিলাদ।
২ গোলে পিছিয়ে থেকে শেখ রাসেল ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। ৬৫ মিনিটে সফল হয় তারা। সতীর্থের পাসে পর্তুগালের ফরোয়ার্ড ইসমাইল রুতি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ব্যবধান কমান। তবে তখনও আবাহনীর গোল ক্ষুধা কমেনি।
৮৪ মিনিটে সুশান্ত ত্রিপুরার পাসে অধিনায়ক জীবন বক্সের ভেতর থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে করেন দৃষ্টিনন্দন গোল। তাতে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী।









