টানা পাঁচ ম্যাচ হারেনি ছয়বারের প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। ষষ্ঠ ম্যাচও জেতার পণ করেছিল মারিও লেমসের দল। আগে গোল করায় স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছিলো। কিন্তু রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী তাদেরকে দুঃস্বপ্নের রাত উপহার দিয়েছে! উড়তে থাকা আবাহনীকে ৩-২ গোলে হারিয়ে মাটিতে নামিয়ে এনেছে বন্দরনগরীর দলটি।
অথচ ধারেভারে ঢাকা আবাহনীর সমকক্ষ নয় চট্টগ্রামের দলটি। এবার তাদেরকে অনেকেই আন্ডারডগ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মারুফুল হকের কোচিংয়ে ধীরে ধীরে দলটি দারুণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে।
ঢাকা আবাহনী এমনিতেই কিছুটা চোটজর্জর দল। কোনও ম্যাচেই মূল একাদশের সবাইকে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েল্তন টানা দুই ম্যাচে নেই। হৃদয় কিংবা ইমন বাবুও খেলছেন না। এছাড়া রাকিব হোসেন-টুটুল হোসেন বাদশার সার্ভিসটাও সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও আগের ম্যাচগুলোতে বেশ ভালোভাবে উতরে গেছে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।
আজ (মঙ্গলবার) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে মারিও লেমসের দলের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছে মারুফুল হকের শিষ্যরা। তবে প্রথম ২০ মিনিটেই ঢাকার দলটি এগিয়ে যায়।
যদিও ম্যাচ ঘড়ির ৬ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ঢাকা আবাহনী। দানিয়েল কলিনদ্রেসের কর্নারে রেজাউল করিম ফাঁকায় হেড করলেও ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ১৫ মিনিটে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি লেমসের দলকে। নিজেদের বক্সের একটু ওপর থেকে আবু সাইদের লং পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেন কলিনদ্রেস। গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডারকে প্রতিরোধের সুযোগ না দিয়ে দুরূহ কোণ থেকে নিখুঁত শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। চলতি লিগে গোলের খাতা খুললেন কোস্টারিকার এই ফরোয়ার্ড।
২০ মিনিটে সমতায় ফেরে চট্টগ্রাম আবাহনী। ওমিদ পোপালজাইয়ের কর্নারে পিটার থ্যাঙ্কগডের হেড দূরের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়। ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি গোলীকিপার শহিদুল আলম সোহেল।
৩৪ মিনিটে পোপালজাইয়ের ক্রসে জাহিদ হোসেনের শট শুয়ে ফেরান সোহেল। কিন্তু চার মিনিট পর তিনি পারেননি পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সে ঢুকে উইলিয়াম টিওয়ালার বুলেট গতির শট আটকাতে। তাতেই বন্দর নগরীর দল ২-১ স্কোরলাইনে এগিয়ে যায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর পোপালজাইয়ের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। এরপর আবু সাইদের শট দূরের পোস্টের বাইরে গেলে পিছিয়ে থাকার অস্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় ঢাকা আবাহনী।
বিরতির পর লেমসের দল আধিপত্য দেখাতে থাকে। গোল শোধ দেওয়ার জন্য কম চেষ্টা করেনি। প্রায়ই হাফ লাইনে ওপরে উঠে গোল করার আপ্রাণ চেষ্টা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ৫০ মিনিটে কলিনদ্রেসের ফ্রি কিকে রাফায়েল অগাস্তোর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়
৬ মিনিট পর জীবনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে সমর্থকরা হতাশ হয়। ৬১ মিনিটে রাফায়েলের পাস থেকে জুয়েল রানা বক্সে ঢুকে শট নেওয়ার মুহূর্তে গোলকিপার আজাদ ট্যাকল করে বিদপমুক্ত করেন।
৬৩ মিনিটে জীবনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট গোলকিপার ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন। পরের মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে ওমিদ পোপালজাই চট্টগ্রাম আবাহনীকে আবারও এগিয়ে নেন। সোহেল রানার পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বেরিয়ে এসে দারুণ শটে জাল কাঁপান।
৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকে আবাহনী লিমিটেড আক্রমণের ধারাবাহিকতা রেখে একটি গোল শোধ দিয়েছে। ৮৫ মিনিটে বদলি রাকিব হোসেন ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে মেরে সবাইকে অবাক করে দেন। চার মিনিট পর জুয়েল রানার আলতো চিপে রাফায়েল অগাস্তো বুক দিয়ে বল নামিয়ে বাইসাইকেল কিকে স্কোরলাইন ৩-২ করেন।
শেষের দিকে গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলও ওপরে উঠে এসে সতীর্থদের দিয়ে গোল করার চেষ্টায় থাকলেও হারের লজ্জা এড়াতে পারেনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
৬ ম্যাচে প্রথম হারে আবাহনী লিমিটেড ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। চট্টগ্রামের দলটি সমান ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে চতুর্থ স্থানে।









