আগের চেয়ে বেশ শক্তিশালী দল গড়েছে শেখ রাসেল। সাদ উদ্দিন-রহমত মিয়াদের মতো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা রয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন উঁচুমানের বিদেশিও। তবু মাঠের পারফরম্যান্সে হতশ্রী অবস্থা তাদের। প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ম্যাচ হেরে পয়েন্ট তালিকায় চলে গেছে নবম স্থানে। দলের এমন দুর্দশা কিছুতেই মানতে পারছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কোচ ও খেলোয়াড়দের!
৭ ম্যাচে মাত্র একটি জিততে পেরেছে শেখ রাসেল। আবাহনী লিমিটেড, বসুন্ধরা কিংস, উত্তর বারিধারা ও শেখ জামালের কাছে হারলেও জয় বলতে শুধু সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে। এরমধ্যে তলানির দল বারিধারার কাছে হারটি ছিল আরও দৃষ্টিকটু। অথচ দল তৈরি করতে শেখ রাসেলের বিনিয়োগ প্রায় ১০ কোটি টাকা! শক্তিমত্তায় কাগজে-কলমেও এগিয়ে রাখা হচ্ছিল তাদের। মাঠে সেসবের প্রয়োগ না ঘটায় ক্লাবটির ডিরেক্টর (স্পোর্টস) সালেহ জামান সেলিম আঙুল তুলেছেন কোচ-খেলোয়াড়ের দিকে। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘একমাত্র কোচ ও ম্যানেজার বলতে পারবে, কেন এমন খারাপ অবস্থা। উত্তর বারিধারার বিপক্ষে ১০ মিনিটে দুই গোল দেওয়ার পর প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখা হয়েছে। যে কারণে দল রিল্যাক্সড হয়ে পড়ে। কালকের হারটা ছিল অপ্রত্যাশিত। আসলে খেলোয়াড়দের কমিটমেন্ট নেই। খেলোয়াড়রা সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে পড়েছে। টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না।’
দলটির কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সাইফুল বারী টিটু। আর ম্যানেজার হিসেবে আছেন সাবেক তারকা খন্দকার ওয়াসিম ইকবাল। সেলিম মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, ‘বিগ বাজেটের দল গড়া হয়েছে এবার। ৮ থেকে ১০ কোটি খরচ আছে। টানা চার ম্যাচে হার তো মানা যায় না। কোচ ও ম্যানেজারকে জবাবদিহি করতে হবে। হয়তো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কোচ সবটুকু আদায় করতে পারছেন না। এভাবে চললে কোচরাও একসময় মূল্য পাবে না। তখন ৫০-৬০ লাখ টাকা কেউ দেবে না তাদের।’
সাইফুল বারী টিটু দীর্ঘদিন ধরে শেখ রাসেলের কোচ হিসেবে কাজ করছেন। ক্লাবটির পরিচালক যেভাবে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন, এর জবাব খুঁজতে তাকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি তাকে। তবে ক্লাবটির ম্যানেজার খন্দকার ওয়াসিম ইকবাল এর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, ‘ঢাকার মাঠে বিদেশি ফুটবলাররাই মাঠের গতি-প্রকৃতি বদলে দিচ্ছেন। স্থানীয় খেলোয়াড়দের মান কাছাকাছি। ম্যাচশেষে বেশিরভাগ সময় বিদেশি খেলোয়াড়রা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন। সেই জায়গায় আমাদের বিদেশিরা আপ টু দ্য মার্ক নয়। শুধু তাই নয়, মিডল গ্রেডেও আসছে না। মূলত এই জায়গায় আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। এটা মানতেই হবে।’
তারপর এই সাবেক তারকা যোগ করে বলেছেন, ‘এখন ধরেন রোনালদো-মেসি তো অনেক দামি খেলোয়াড়। তারা যদি খেলতে না পারে, তাহলে ফল তো সেরকমই হবে। দামি হলেও মাঠের খেলাতে নিজের যোগ্যতা সবাইকে প্রমাণ করতে হবে।’
এলতন মাচাদো-ইসমাইল রুটিসহ অন্য দুজনই শেখ রাসেলের ‘উঁচুমানের বিদেশি’। শোনা যায় তাদের পেছনে ক্লাবের বড় রকমের পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। তাদের মাঠের পারফরম্যান্স নিয়েও আঙুল তুলছেন স্বয়ং ম্যানেজার!









