সদ্য ঘোষিত জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন মতিন মিয়া। কিন্তু বাদ পড়ে যে ‘ব্রাত্য’ হয়ে পড়েননি তা বুঝি বসুন্ধরা কিংসের হয়ে প্রমাণ করতে শুরু করেছেন। আজ (বুধবার) প্রিমিয়ার লিগে রোমাঞ্চকর ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস ৪-৩ গোলে হারিয়েছে সাইফ স্পোর্টিংকে। বসুন্ধরার জয়ের পথে জোড়া গোল পেয়েছেন মতিন।
রবিনিয়ো ও খালেদ শাফিই দুজনই একবার লক্ষ্যভেদ করেছেন। কিংস অ্যারেনায় সাইফ স্পোর্টিংয়ের তিন গোলদাতা এমফন উদোহ, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও রিয়াদুল হাসান রাফি।
৯ ম্যাচে টানা আট জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করলো বসুন্ধরা। চতুর্থ হারের তেতো স্বাদ পাওয়া সাইফ ১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে ষষ্ঠ স্থানে।
ম্যাচ ঘড়ির তৃতীয় মিনিটে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। সোহেল রানার পাসে বাঁ দিক দিয়ে বিনা বাঁধায় বক্সে ঢুকে নিখুঁত কোনাকোনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন রবিনিয়ো। ৯ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
১৮ মিনিটে সাইফ সমতায় ফেরে। আসরোর গফুরভের থ্রু থেকে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন ফাহিম। গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো তাকে ফেলে দিলেও রেফারি খেলা চালিয়ে নেন। আলগা বল অনায়াসে জালে জড়িয়ে দেন নাইজেরিয়ান সানডে।
২৬ মিনিটে নিজেদের ভুলে গোল হজম করে বসে সাইফ স্পোর্টিং। মেরাজ হোসেনের ব্যাক পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি নাসিরুল ইসলাম। তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দূরের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মতিন। চলতি লিগে গোলের খাতাও খুললেন এই ফরোয়ার্ড।
বিরতির পর খেলা আরও জমে ওঠে। ৫৫ মিনিটে নিজেদের ভুলে আবারও গোল খেয়ে বসে সাইফ স্পোর্টিং। গোলকিপার শান্ত কুমার রায় বক্সেই বল দেন জামাল ভূঁইয়াকে। এরপর সতীর্থের উদ্দেশ্যে জামালের পাস পৌঁছানোর আগেই ছুটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন মতিন। ডান পায়ের নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৫৯ মিনিটে সতীর্থের সঙ্গে মেরাজের সঙ্গে একবার বল দেওয়া-নেওয়া করে উদোহ দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শট হয়নি ঠিকঠাক। বল বেরিয়ে যাওয়ার আগে ফাহিম টোকায় স্কোরলাইন ৩-২ করেন।
৬৭ মিনিটে উদোহর কর্নার জিকো পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। জটলার ভেতর থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান রাফি। কিন্তু তখনও রোমাঞ্চ আরও বাকি!
১০ মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ক্রসে সাফিইয়ের হেড গোলকিপার কর্নারের বিনিময়ে ফেরান। রবিনিয়োর কর্নারে হেডেই বসুন্ধরাকে এগিয়ে নেন বদলি ইরানি ডিফেন্ডার শাফিই। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।









