বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ও তাদের দাবি অনুযায়ী চুক্তিভূক্ত খেলোয়াড়দের ক্লাব টেন্টে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন আমলে নেয়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আজ শুক্রবার বাফুফে ভবনে নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শেখ জামালের বিষয়গুলো আইন অনুসারেই নিষ্পত্তি করা হবে।
বৈঠক শেষে বাফুফের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এএফসি কাপে খেলার জন্য শেখ জামাল নিয়মতান্ত্রিকভাবে যদি কোনও ক্লাবকে অনুরোধ করে তবে সেই ব্যাপারটি ফুটবল ফেডারেশন গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
এ প্রসঙ্গে বাফুফের সহ-সভাপতি কাজী নাবিল বলেন, ‘শেখ জামাল তাদের প্রেস কনফারেন্সে কী বলেছে সেটি আমাদের বিবেচ্য নয়। বাফুফে নিজস্ব গ্রহণযোগ্য নিয়ম অনুসারেই পথ চলছে। আমাদের কথা হচ্ছে ট্রান্সফার উইন্ডো শুরু হয়ে যাওয়ার পর খেলোয়াড়রা মুক্ত -স্বাধীন। তাদের যেখানে ইচ্ছা সেখানেই তারা খেলবে এবং ক্লাবগুলোকে সেটি মাথায় রেখেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে আদান প্রদান করতে হবে। এই উইন্ডোর বাইরে কোন ক্লাব কী স্বাক্ষর করিয়েছে, কত টাকা নিয়েছে বা অন্য কী করেছে সেগুলো বাফুফে দেখবে না। খেলোয়াড়রা দেশের স্বাধীন নাগরিক তাদের ইচ্ছা অনুসারেই তাদের ক্লাব বেছে নেবে। যে খেলোয়াড় যে ক্লাবের পক্ষে খেলতে ইচ্ছুক সেই ক্লাবেই তাদের কাগজ জমা দেবেন এবং এতে দ্বিমত থাকলে এটি প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটি দেখবে। আর এ বিষয়ে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
বাফুফে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ক্লাবের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে বাংলাদেশের পথচলা শেষ হওয়ার পর আমরা শুনেছি যে খেলোয়াড়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা তাদেরকে হোটেল থেকে নিজ দায়িত্বে ফুটবল ফেডারেশনে নিয়ে আসি। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় কে কোন ক্লাবে খেলবে। ফুটবল ফেডারেশন কোনও খেলোয়াড়কে কোনও নির্দিষ্ট ক্লাবে খেলায় কোনও প্রভাব বিস্তার করেনি। খেলোয়াড়রা নিজেরাই নিজেদের গন্তব্য বেছে নিয়েছেন। আমরা বলেছি খেলোয়াড়দের বাফুফের গেট পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। এরপর রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারের। বাফুফে কোনও খেলোয়াড়কে কোনও ক্লাবের অধীনে ছেড়ে দেয়নি। এছাড়া শেখ জামাল যে দাবি করছে সেটিও বাফুফের কাছে অমূলক মনে হয়েছে। বাফুফে কোনও খেলোয়াড়কে ক্লাবের কাছে পৌঁছে দেয় না।’
তবে পেশাদার লিগের ৮টি আসর শেষ হওয়ার পরও মৌসুম কখন শেষ সেই বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত থাকাতে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে সেটা স্বীকার করেছেন আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে মাঠের। এজন্য হয়তো সবকিছুর নির্দিষ্ট সময়সীমা আমরা রাখতে পারি না। এজন্য মৌসুম থেকে মৌসুমের শেষ দল বদলের রীতি রয়েছে। তা অনেক সময় জটিলতার সৃষ্টি করে। আগামীতে আমরা এটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে মৌসুম কখন শুরু, কখন শেষ।’
এরপর আবারও শেখ জামাল সভাপতি মনজুর কাদেরের প্রসঙ্গ উঠে আসে বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে। মনজুর কাদের দুই দিন আগে দাবি করেছেন বাফুফে ফুটবল উন্নয়নে কোনও অর্থ ব্যয় করার প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল দল অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করেছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে নেপাল থেকে শিরোপা নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক বয়স ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলছে। এগুলো কি খরচ নয়? এগুলো কি ফুটবল উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে না? একজন ফুটবল প্রেমী হিসেবে আমি বলবো ওনার মতো একজন ফুটবল প্রেমীর আত্মহত্যা কাম্য নয়। আমি আশা করি তিনি আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকবেন।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
/আরএম/এফআইআর/








