বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে ভালোই খোঁজ-খবর রাখেন ভারতের অন্যতম রক্ষণ স্তম্ভ প্রীতম কোটাল। বাঙালি বলে হয়তো আলাদা একটা টান অনুভব করেন; তবে আরেকটি কারণও আছে। গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয় দল ছাড়াও দুই দেশের ক্লাবগুলোও প্রায় মুখোমুখি হচ্ছে। আর মোহনবাগানের অধিনায়ক হিসেবে এই বাড়তি দায়িত্বটা বেশ উপভোগও করছেন ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার।
আবারও দুই বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় দল আবাহনী লিমিটেড মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এটিকে মোহনবাগানের বিপক্ষে। এএফসি কাপের প্লে-অফ ম্যাচে দুই বাংলার দলের লড়াইয়ের আগে রীতিমতো রোমাঞ্চিত প্রীতম। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে সরাসরি ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আবাহনী-মোহনবাগান ম্যাচে কঠিন লড়াই হবে।’
১৩২ বছরের পুরোনো ক্লাবটিতে প্রথমবার ২০১৩ সালে যোগ দিয়ে পাঁচ বছর খেলেছেন প্রীতিম। তারপর অন্য দল হয়ে আবারও ২০১৮ সালে সেই যে যোগ দিলেন, এখনও খেলে যাচ্ছেন। কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্লে-অফ ম্যাচকে সামনে রেখে মোহনবাগান অধিনায়কের সঙ্গে কথা হয় হোয়াটসঅ্যাপে। দূরে বসে কথা হলেও বেশ আন্তরিকতার সঙ্গেই বলছিলেন, ‘হ্যাঁ, অনেক দিন পর দুই বাংলার দলের লড়াই হতে যাচ্ছে। এরই সঙ্গে আবাহনীর অধিনায়ক নাবীব নেওয়াজ জীবনের সঙ্গেও দেখা হবে, কথা হবে। সে আমার বন্ধু, আমরা হয়তো একই হোটেলে থাকবো।’
গত মৌসুমে পায়ের চিকিৎসা করাতে কলকাতায় গিয়েছিলেন জীবন। সেখানে তার বেশ সহায়তাও করেছেন প্রীতম ও তার হবু স্ত্রী। তাই আবাহনীর অন্যতম অস্ত্র জীবনের সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রসঙ্গ শুরুতেই তুলে ফেললেন। তবে ‘যতই বন্ধু হোক না কেন, মাঠে কিন্তু মোহনবাগান জেতার জন্যই যাবে’— সেটা বলে রাখলেন কলকাতার ছেলে প্রীতম। সেই সঙ্গে জানালেন তাদের সংকল্পের কথাও। বলেন, ‘এই ম্যাচে আমাদের জিততেই হবে। গ্রুপ পর্বে যেতে হলে এর কোনও বিকল্প নেই।’
২০১৭ সালে এএফসি কাপে মোহনবাগানের কাছে তাদের মাঠে ৩-১ গোলে হেরেছিল আবাহনী। আর ঢাকার মাঠে ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। কলকাতার ম্যাচটিতে মাঠে ছিলেন প্রীতম। এছাড়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেরও খোঁজ-খবর রাখেন বেশ ভালোভাবেই। কথা বললেন কলকাতায় খেলা বাংলাদেশের আরেক দল বসুন্ধরা কিংসের বিষয়েও। তবে প্রীতমের দৃষ্টিতে কিংসের চেয়ে আবাহনী ভালো দল। বিষয়টি খোলাসা করে বললেন, ‘আমি বাংলাদেশ লিগ ভালোমতোই ফলো করি। আবাহনী আমার দৃষ্টিতে খুব ভালো দল। তাদের চার বিদেশিও ভালো। রাফায়েল- কলিনদ্রেসের মতো খেলোয়াড় আছে। আমার কাছে মনে হয় বসুন্ধরার চেয়েও ভালো দল আবাহনী। এমনকি দলটির কোচও বেশ ভালো। ট্যাকটিশিয়ান কোচ সে।’
নিজেদের চিরচেনা মাঠে খেলা, নিজেদের হাজারও দর্শক। রয় কৃষ্ণা-কোওকোর মতো বিদেশি ফুটবলার রয়েছে। রয়েছে প্রীতমসহ চার বাঙালি ফুটবলারও। এছাড়া জাতীয় দলে খেলা মানভির সিংহরাতো আছেনই। আবাহনীর বিপক্ষে মোহনবাগান এগিয়ে থাকবে, এমনটা ভাবেন কিনা জানতে চাইলে সোজাসাপ্টাই জবাব দেন প্রীতম। তার কথায়, ‘আপনারা আগে থেকেই এগিয়ে রাখছেন। আমার দৃষ্টিতে ম্যাচটি ৫০-৫০ হবে।’
তাহলে কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ধুন্ধুমার ম্যাচই অপেক্ষা করছে।









