অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেনের সঙ্গে মোহামেডানের সম্পর্ক ভালোই যাচ্ছিল। হঠাৎ কী যে হলো, ৫৯ বছর বয়সী কোচ অস্ট্রেলিয়া থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরে জানা গেলো খেলোয়াড় নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কারণে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে ‘ঘরের ছেলে’ শফিকুল ইসলাম মানিককে আপৎকালীন কোচ করা হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয়বার সাদা-কালোদের ডাগআউটে দাঁড়াবেন ৫৭ বছর বয়সী সাবেক ডিফেন্ডার। আগের দুইবার ক্লাবের ক্রাইসিস মুহূর্তে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ব্যতিক্রম হলো না এবারও। বলা যায় মোহামেডানের ‘ক্রাইসিস ম্যান’ হিসেবে একপ্রকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে। তাই দায়িত্ব পেয়ে চাপ অনুভব করছেন। তবে চাপ সামলে এগিয়ে যাওয়ার পণ সাবেক ডিফেন্ডারের।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সাদা-কালো দলে টানা সাত বছর খেলেছেন মানিক। এর তিন বছর পর ঐতিহ্যবাহী দলেই ট্রেনার হিসেবে নতুন ক্যারিয়ার। সময়ের পরিক্রমায় ২০০৫ সালে প্রথম কোচও হয়ে যান দলটির। ডাগআউটে দ্বিতীয়বার দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা হয় ২০১০-১১ মৌসুমেও। তাই মানিকের কাছে এমন পরিস্থিতিতে কোচ হওয়া নতুন কিছু নয়, ‘মোহামেডান আমার ঘরের দল। ফেরার অনুভূতি অন্যরকম। জাতীয় দলে যেমন একটা বা দুটো টুর্নামেন্টের জন্য কোচ করা হয়। আমি মনে করি এই মুহূর্তে জাতীয় দল ও মোহামেডানের কোচ হওয়াও সমান কথা। তবে মোহামেডান-আবাহনীর কোচ হওয়া সামথিং ডিফারেন্ট। সবাই হতে পারে না।’
শন লেন তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছিলেন। এখন তার জায়গায় দায়িত্ব পালন করাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং? এমন প্রশ্নের জবাবে মানিকের উত্তর, ‘আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে। ক্লাবটির চেয়ারম্যান আলমগীর ভাই কাজ করতে বলেছেন। নিজের দায়িত্ব বা কর্তব্য পালন করবো। কেননা, মোহামেডান হঠাৎ করে আপৎকালীন সময়ে পড়েছে। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্লাবটির সদস্য হিসেবে সব মিলিয়ে ক্লাবকে সাহায্য করাটা আমার দায়িত্ব।’
প্রিমিয়ার লিগে ২২ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান ষষ্ঠ স্থানে আছে। এই দল নিয়ে কতদূর যেতে পারবেন? মানিক অবশ্য রাতারাতি সব বদলের আশ্বাস দিচ্ছেন না। বাস্তবতা তুলে ধরে বলেছেন, ‘আগে অনুশীলন করি, দলকে পুরোপুরি দেখি। দেখে বলতে পারবো কতদূর যেতে যাওয়া যাবে। মোহামেডান এমন কোনও পজিশনে নেই, যেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ হওয়া যায়। যে ধারাবাহিকতায় রেজাল্ট আসছিল, সেটা যেন রক্ষা করতে পারি এই চেষ্টাই থাকবে।’
মোহামেডান ২০০২ সালে শেষবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর থেকে গৌরব ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় থাকলেও লিগ শ্রেষ্ঠত্ব তাদের কাছে সোনার হরিণ। কিন্তু জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা মানিক এখন নিজেও ভালো করার তাগিদ অনুভব করছেন, ‘২০০৭ সালে মোহামেডান খারাপ দল ছিল। তখন বলেছিলাম চ্যাম্পিয়ন হবে। শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়েছি। আসলে এখন আমরা বলতে পারছি না চ্যাম্পিয়ন হবো। আগামীতে এমন দল করতে হবে যেন চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। এখন যেমন দল হোক না কেন, যা আছে সেটা নিয়ে যেন লড়াই করতে পারি।’









