আরেকবার ফুটবল দুনিয়াকে উত্তেজনার সাগরে ভাসাতে আসছে বিশ্বকাপ। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাতারে বসছে ২০২২ সালের ফুটবল মহাযজ্ঞ। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফির বিশ্বভ্রমণে ঢাকায় এসেছিল সোনালি ট্রফি। সঙ্গে এসেছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ক্রিস্তিয়ান কারেম্বু। ফুটবল পাগল বাংলাদেশ যে বিশ্বকাপ এলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়, সেটি জানা সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের। তবে নিজে ফরাসি হওয়ায় তার প্রত্যাশা ভবিষ্যতে ব্রাজিল-ফ্রান্স সমর্থকে বিভক্ত হবে বাংলাদেশ। র্যাডিসন হোটেলের সংবাদ সম্মেলনে এই আশা ব্যক্ত করার সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিট, বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও নিজের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি ভাগাভাগি করেছেন কারেম্বু...
বিশ্বকাপ না খেলেও ফু্টবল উন্মদনার কমতি নেই বাংলাদেশ...
কারেম্বু: যখন এই দেশে আসলাম এবং মাটিতে পা রাখলাম, এটা ছিল ভীষণ গরম। তবে আমি অবাক হয়ে গেলাম, যখন দেখলাম লোকজন সব কীভাবে দেখতে আসছে (বিশ্বকাপ ট্রফি)।
মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল আমার। উনাদের সঙ্গে আমার কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। উনারা আমাকে জানিয়েছেন, এখনকার ভক্তদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে কতটা উন্মাদনা। এবং বিশ্বকাপের মতো আসর এলে তারা কী কী করে। এখানে অনেক ব্রাজিল ভক্ত আছে ও অনেক আর্জেন্টিনার ভক্ত আছে। একই সঙ্গে আছে তাদের নিজস্ব রঙ, নিজস্ব জার্সি। এটা অসাধারণ এবং এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য।
২০২২ বিশ্বকাপের ফেভারিট...
কারেম্বু: আমার মনে হয়, ফেভারিট আসলে সবসময় একই থাকে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড এবং অবশ্যই ফ্রান্স। আমার টপ ফেভারিট কে? অবশ্যই ফ্রান্স।
ব্রাজিলের চেয়ে কি আর্জেন্টিনার সুযোগ বেশি?...
কারেম্বু: এই বিষয়টা নিয়ে আমি আসলে বেশি কিছু বলবো না। কারণ আপনাদের দেশের অর্ধেক ব্রাজিল ও অর্ধেক আর্জেন্টিনা। (ফেভারিটের তালিকায়) তৃতীয় কে?
(এক সাংবাদিক ইংল্যান্ড কিংবা জার্মানি বলতেই কারেম্বু বলে ওঠেন) ফ্রান্স নেই। তাহলে তো আমার চলে যেতে হবে (হাসি)। চার বছর পর যখন আমরা ফিরে আসবো (বাংলাদেশে), তখন হয়তো দেখবো বাংলাদেশ ভাগ হয়েছে ফ্রান্স ও ব্রাজিল (সমর্থকে)।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় হুমকি...
কারেম্বু: যেহেতু আমরা (ফ্রান্স) ফেভারিট, প্রতিটি দলই হবে আমাদের প্রথম প্রতিপক্ষ। তাই আমাদের সাবধান হতে হবে।
প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি...
কারেম্বু: এই ট্রফি আমি ছুঁয়ে দেখিনি। আমি চুমু দিয়েছি (হাসি)। কারোরই প্রত্যাশা ছিল না ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতবে (১৯৯৮ সালে)। তবে দলের চেতনা আমাদেরকে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে যেতে সাহায্য করেছে। আমরা এক ছিলাম। আমরা একসঙ্গে ছিলাম, ঐক্যবদ্ধ। এবং এটিই আমাদের শক্তি ও স্পিরিট হয়ে উঠেছিল।
যখন আমি ছোট ছিলাম, টিভিতে দেখতাম (বিশ্বকাপ ট্রফি), কিন্তু কখনও চিন্তাও করিনি একদিন এটা ছুঁয়ে দেখতে পারবো কিংবা অন্য কাউকে এটার অনুভূতি ভাগাভাগি করতে পারবো। এই ট্রফি যদি আমি জিততে না পারতাম, তাহলে আপনাদের সঙ্গে আমার এভাবে থাকা হতো না।
বাংলাদেশের আতিথেয়তা...
কারেম্বু: এখানে (সংবাদ সম্মেলনে) আসার আগে, আমি লিচু ও আম এবং অন্যান্য খাবার খেতে গিয়েছিলাম। কারণ, মানুষজনের সঙ্গে মিশে আপনাদের এখনকার খাবার ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে আবিষ্কার করতে চেয়েছি। এখনকার (আতিথেয়তা) সবকিছুর অভিজ্ঞতা একককথায় অসাধারণ। আমাদের যারা অভ্যর্থনা দিয়েছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ২০২৬ সালে আবার এখানে ফিরতে চাই। হ্যাঁ, সত্যি খুবই দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। আতিথেয়তা অনন্য। ধন্যবাদ।









