অবশেষে গুঞ্জনটা সত্যি হলো! ঘরোয়া ফুটবলে এবারের মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল করা স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনের বাংলাদেশ দলে জায়গা হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বরে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরার দৃষ্টি কাড়তে পারেননি আবাহনী লিমিটেডের স্ট্রাইকার। খবরটা শুনে হতাশায় নিমজ্জিত জীবন। পাশাপাশি রাগও উগড়ে দিয়েছেন, ‘আমি মৌসুমে ৯ গোল করেছি। বাংলাদেশের কোন স্ট্রাইকার তা করতে পেরেছে?’
এমনিতে ঘরোয়া ফুটবলে দেশি স্ট্রাইকারদের পায়ে সেভাবে গোল নেই। বিদেশি স্ট্রাইকারদের চাপে আর নিজেদের সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়রা সেভাবে মেলে ধরতে পারছেন না। এরইমধ্যে যারা কিছুটা হলেও মুন্সিয়ানা দেখানোর চেষ্টা করছেন, তার মধ্যে জীবন অন্যতম। কাবরেরার দলে ডাক পাওয়া মতিন মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও সুমন রেজাদের পায়েও সেভাবে গোল নেই। তারপরও আকাশি-নীল জার্সিধারীদের অন্যতম তারকা জীবনকে চিন্তার মধ্যেও আনেননি ৩৭ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ।
যদিও কাবরেরা সংবাদ সম্মেলনে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘আমাদের সিস্টেমের সঙ্গে মানায় না সেটা নয়; আমি বিশ্বাস করি, যে স্ট্রাইকারদের ডেকেছি তারা আমাদের আইডিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, উন্নতি করতে পারবে। এমনটা আশা করছি। তবে ব্যাপার হচ্ছে, দেখেন- জীবন বিপিএলে ৫ গোল করেছে, আরও কয়েকজন ৪ গোল করেছে। কত গোল করেছে সেটা বিষয় নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে তারা কতগুলো ম্যাচে ফিট ছিল আমাদের দর্শনে, আমাদের দলের পরিচয়ে, তা দেখতে হবে।’
২০১৫ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন জীবন। এই পথচলায় তিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন কমই। গত মার্চে ফিফা প্রীতি ম্যাচে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে কাবরেরার অধীনে খেলেছেন। তবে সবশেষ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে অনুশীলনে আসা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার কারণে কাবরেরার দলে জায়গা হয়নি। এবার সবকিছু ঠিকঠাক চললেও হতাশ হতে হয়েছে।
জাতীয় দলে ৩২ ম্যাচে ৫ গোল করা জীবনের তাই প্রশ্ন, ‘আমি গত মৌসুমে ৯ গোল করছি, বাংলাদেশের কোনও স্ট্রাইকার করছে?’ কথাটা শেষ করেই বাংলা ট্রিবিউনের কাছে সব ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি, ‘আমি তো ডিসিপ্লিন মেনে চলি। যখন জেমি ডের অধীনে ছিলাম, তখন ডিসিপ্লিন আরও জোরালো ছিল, এখনকার চেয়ে। আসলে আমার মনে হয় দল হচ্ছে অন্যভাবে। এখানে আমার বলার কী আছে।’
কাবরেরার কোচিং দর্শনের সঙ্গে জীবন মানানসই নয়। জীবন যদিও বলছেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে কখনও ইনডিসিপ্লিন হওয়ার খবর শুনেছেন? শোকজও খাইনি কখনও। অহরহ ঘটনা আছে, একদিন বা দুই দিন পর খেলোয়াড় আসছে ক্যাম্পে। আমি এখানে কী বলবো। হতে পারে তার (কোচ) খেলার সঙ্গে আমার মিলছে না। তিনি তার মতো করে বলেছেন।’
কাবরেরার অধীনে ভবিষ্যতে দলে ফিরতে পারবেন কিনা সংশয়ে আছে জীবন। সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছেন না এই ফরোয়ার্ড, ‘অবশ্যই একদিন জাতীয় দলে ফিরতে হবে। তবে এই কোচের অধীনে ফেরা হবে বলে মনে হয় না। তবে আমি আমার লড়াই করে যাবো। এভাবে দল থেকে বাদ পড়বো চিন্তাও করিনি।’








