সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে আলো কেড়েছেন শাহরিয়ার ইমন। প্রিমিয়ার লিগে দুই গোলের পাশাপাশি তিন এসিস্ট করে আলোচনায় ছিলেন। তাতেই ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের সামনে খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা। আগামী সেপ্টেম্বরে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ২৭ সদস্যের প্রাথমিক দলে জায়গা পেয়ে উচ্ছ্বসিত খুলনার রূপসা থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার। তবে এতো দ্রুত লাল-সবুজ দলে জায়গা পেয়ে যাবেন, তা কল্পনাও করেননি তিনি।
অথচ শাহরিয়ার ইমনের এবারই প্রথম প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয়েছে। সেনাবাহিনীর চাকুরে এই ফুটবলার স্বাধীনতা কাপে ভালো খেলে মোহামেডানে জায়গা করে নিয়েছেন। লিগে আবাহনীর বিপক্ষে করেছেন দুর্দান্ত এক গোল। কাবরেরার দলে জায়গা পেয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইমন বলেছেন, ‘এতো দ্রুত বাংলাদেশ দলে জায়গা পাবো তা ভাবিনি। তবে প্রথমবার লিগ খেলেছি। শুরু থেকে চেষ্টা করেছি নিজেকে মেলে ধরতে।’
যদিও ফুটবলের শুরুতে পরিবারের সমর্থন পাননি। বাবা-মা চেয়েছিলেন পড়াশোনা করে ছেলে সরকারি চাকুরে হবে। কিন্তু ইমন পড়াশোনার চেয়ে মাঠে থাকতেই পছন্দ করতেন বেশি, ‘আব্বা-মা চাইতো না যে আমি ফুটবল খেলি। তারা চাইতো পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি করি। কিন্তু আমি চুরি করে মাঠে খেলতে যেতাম। স্কুল ফুটবলে গোলকিপার ছিলাম। কিন্তু সাইফুল স্যারের কথায় আক্রমণভাগে খেলা শুরু করি।’
স্বাভাবিকভাবেই এভাবে ফুটবলে সময় দিতেন বলে পড়াশোনাতে মনোযোগ সেভাবে দিতে পারেননি। যার প্রভাব পড়ে এসএসসি পরীক্ষায়। ইমন বলছিলেন, ‘২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেই। কিন্তু ফেল করি, পরেরবার যদিও পাস করি। এরপর আব্বা-মা বুঝলেন পড়াশোনার চেয়ে খেলা নিয়ে আমি বেশি সিরিয়াস। তাই আমাকে খেলায় মনোযোগ দিতে বলেন। তখন থেকে খুলনা লিগে খেলা শুরু করি।'
ইমনের লক্ষ্য এখন কাবরেরার মূল দলে জায়গা করে নেওয়া। কিন্তু সেই পথ যে ভীষণ কঠিন সেটা বুঝতে পারছেন তিনি, ‘মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার জন্য যা করা দরকার, তাই করবো। যদিও এই পজিশনে আরও ভালো খেলোয়াড় আছে। তবে সেসব না ভেবে অনুশীলনে সেরাটা দিতে চাই।’









