সাফ ফুটবলে নারীদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই সাবেক ফুটবলার বলেছেন, ‘বিজয়ী দলকে অভিনন্দন তো জানাতেই হবে, সেটা জানাচ্ছিও। বাংলাদেশ দলের এই সম্মান প্রাপ্য।’
নেপালে অনুষ্ঠিত সদ্যসমাপ্ত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথে ভারতকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে হারিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। সেই পরাজয়ের ধাক্কা যে ভারতীয় ফুটবল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তা অবশ্য কল্যাণ চৌবের কথা থেকেও স্পষ্ট।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সেই ম্যাচের আগে কল্যাণ চৌবে ভারতীয় নারী ফুটবলারদের (‘ব্লু টাইগ্রেসেস’ বা ‘নীল বাঘিনী’ নামে যারা পরিচিত) টুইট করেছিলেন, ‘চিয়ারিং ফর দ্য ব্লু টাইগ্রেসেস টুডে। কিপ আপ দ্য গুড ওয়ার্ক গার্লস। বেস্ট অব লাক।’ সঙ্গে রিটুইট করেছিলেন ভারতীয় ফুটবল টিমের করা একটি পোস্টও – যেখানে ম্যাচের আগে নারী দলকে চিয়ার আপ করা হয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশের কাছে হারার পর এআইএফএফ সভাপতি নারী ফুটবল নিয়ে আর কোনও টুইটই করেননি– একেবারে চুপচাপ।
ভারতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল হ্যান্ডল থেকে সেদিনের হারের পর শুধু মন্তব্য করা হয়েছিল, ‘আজ আমাদের সেরা দিন ছিল না। এখন আমাদের রিগ্রুপ ও রিফ্লেক্ট করে সেমিফাইনালে ফিরে আসার সময়।’ তবে সেমিফাইনালেও ভারতের নারী দল শেষ পর্যন্ত নেপালের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নেয়।
এই পটভূমিতে বুধবার বিকেলে কল্যাণ চৌবের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের।
বাংলা ট্রিবিউন: সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী দল ঢাকায় ফিরে আজ বিপুল সংবর্ধনা পাচ্ছেন, আপনি জানেন?
কল্যাণ চৌবে : হ্যাঁ, শুনেছি। ওরা বিজয়ী দল, টুর্নামেন্টে জিতেছে – সংবর্ধনা তো পাবেই। বিজয়ী দলের সব সময়ই অভিনন্দন প্রাপ্য, আমিও তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।
বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশ কি যোগ্য দল হিসেবেই সাফে জিতেছে, আপনি কী বলবেন?
কল্যাণ চৌবে: বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টে জিতেছে। আর সেটাই বাস্তব। ব্যাস, তার বাইরে আমার আর কী বলার থাকতে পারে?
বাংলা ট্রিবিউন: ভারত যেভাবে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে এই বাংলাদেশ দলের কাছে হেরেছে, তাতে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
কল্যাণ চৌবে : যে কোনও পরাজয়ই আসলে গ্লানির। আর তিন গোলে হারলে তো সেটা যে আরও লজ্জার—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দলটা কেন হারলো, কোথায় আমাদের ভুলত্রুটি হলো – আমাদের ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটি সে বিষয়গুলো সব খতিয়ে দেখছেন। যাতে সব কিছু শুধরে নিয়ে টিমটা আবার দারুণভাবে কামব্যাক করতে পারে। এখানে সংস্থার সভাপতি হিসেবে এখন আমার কিছু বলা সাজে না।
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু আপনি নিজেও তো একজন সাবেক জাতীয় ফুটবলার, আপনারও তো নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ থাকবে?
কল্যাণ চৌবে : ওই যে বললাম, শেষ পর্যন্ত রেকর্ড বুকটাই সত্যি – এবং একমাত্র সত্যি। একটা দল যখন গোল দিয়ে জেতে, তার কী দুর্বলতা ছিল বা কোথায় ঘাটতি ছিল সে সব টেকনিক্যাল বিষয় একেবারে গৌণ হয়ে যায়। কে ভালো খেলেও হেরেছে বা কাদের কপাল খারাপ ছিল, সে সব কেউ মনে রাখে না। কাজেই এটা মানতেই হবে আজ বাংলাদেশের দিন – তাদেরকে অভিনন্দন।
প্রসঙ্গত, ভারতের জাতীয় দল ও বিভিন্ন প্রথম সারির ক্লাবের সাবেক গোলকিপার কল্যাণ চৌবে এ মাসের গোড়াতেই ন্যাশনাল টিমের সাবেক ক্যাপ্টেন বাইচুং ভাটিয়াকে বিপুল ভোটে পরাস্ত করে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। কোনও ফুটবলারের ভারতীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতির পদে আসার ঘটনা এই প্রথম ঘটলো।
কল্যাণ চৌবে একজন বিজেপি নেতাও বটে। ২০১৯ সালে দেশে সাধারণ নির্বাচনে তিনি কৃষ্ণনগর আসন থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন, কিন্তু তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রর কাছে পরাস্ত হন।









