হাভিয়ের কাবরেরা এখন কিছুটা নির্ভার। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিততে চেয়েছিলেন, ব্যবধান যতই হোক না কেন। শেষ পর্যন্ত তারিক কাজীর একমাত্র গোলে সেশেলসকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
তবে ম্যাচটি জেতা মোটেও সহজ ছিল না। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা পূর্ব আফ্রিকার দলটি পেছনে পড়েও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। তাই তো ম্যাচ জিতে তপু-রবিউল-তারিকদের উল্লাস ছিল দেখার মতোই।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ কোচ কাবরেরাকে ফুরফুরে মেজাজে পাওয়া গেলো। সংবাদ সম্মেলনে এসে জয়কেই বড় করে দেখছেন ৩৭ বছর বয়সী কোচ, ‘কঠিন ম্যাচ ছিল। এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জয়। আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল ম্যাচ জেতা। গতকাল বলেছিলামও। এই জয়ে গর্ব করা উচিত। তবে এখন উদযাপনের সময় নেই। পরের ম্যাচে জয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
ম্যাচের ৪২ মিনিটে তারিক হেডে জয়সূচক গোলটি করেন। বিরতির পর এলিটা কিংসলে-রবিউল হাসান-সুমন রেজারা নেমেও পারেননি ব্যবধান বাড়াতে। ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কাবরেরা বলেছেন, ‘প্রথমার্ধের ২০-২৫ মিনিট আমরা খুবই ভালো খেলেছি। বিরতির আগে গোল পেয়েছি। দ্বিতীয়ার্ধে বল পজিশন ধরে রাখতে গিয়ে ভুগেছি। খুবই কঠিন ছিল। আমরা জানি সেশেলস প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল। দেখতে হবে, দ্বিতীয়ার্ধে কী ভুল করেছি এবং কীভাবে পরের ম্যাচে শক্তিশালী হয়ে ফেরা যায়।’
কোচের পাশে বসে দেড় বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফেরা ডিফেন্ডার তপু বর্মণও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সবাই চেষ্টা করেছি। ম্যাচটা জিততে চেয়েছিলাম। সামনে আরও একটা ম্যাচ আছে। সেই ম্যাচেও আরও ভালো খেলতে চাই। আজকের ম্যাচে ওরা বেশ আক্রমণ করেছে। আমরা সতর্ক থেকেছি। আমরা দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ম্যাচে জয় পেয়েছি। গত ২২ দিন আমরা যে পরিশ্রম করেছি তারই ফল পেয়েছি আজ।’
অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের পায়ে সেভাবে নিয়মিত গোল নেই। জীবন- রাকিব-সাজ্জাদ গোল পেলেও তা নিয়মিত নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তপু-তারিকরা গোল পাচ্ছেন কিংবা রক্ষণভাগের ফুটবলারদের কাছ থেকে গোল আসছে। তপু অবশ্য এটাকে বড় বিষয় মনে করছেন না, ‘অলআউট ফুটবলে কে গোল করলো এটা বড় ব্যাপার না। যে সুযোগ পাবে সেই গোল করবে। ভালো সুযোগ পেলে যে কেউ গোল করবে। বর্তমান ফুটবলে ডিফেন্ডাররা কেবল ডিফেন্ডই করতে পারে না, পাশাপাশি আক্রমণও করে।’









