১৯৯৩ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল দলগুলোকে নিয়ে হয়ে আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। শুরুটা হয়েছিল সার্ক গোল্ডকাপ নামে। পরিবর্তনের ধারায় আজ তা দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপ হিসেবে পরিচিত। দ্বিবার্ষিক এই টুর্নামেন্ট ১৩ বার হয়েছে, কিন্তু এবারের আসর আগেরগুলোর চেয়ে একেবারেই আলাদা। কারণ এই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনও দল অংশ নিচ্ছে, তাও একটি নয়, দুটি। লেবানন ও কুয়েতের অংশগ্রহণে এবারের সাফ তীব্র লড়াইয়ের ঝাঁজ তুলছে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তীরাভা স্টেডিয়ামে কুয়েত ও নেপালের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ১৪তম সাফের। রাতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত খেলবে পাকিস্তানের সঙ্গে।
সাফকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে ভারত। আটবারের চ্যাম্পিয়ন তারা। ২০০৩ সাল বাদে প্রত্যেকবারই ফাইনালে খেলেছে মেনস ইন ব্লুরা। আর ওইবারই একমাত্র ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও ফেভারিট ভারত, কিন্তু লেবানন-কুয়েতের অন্তর্ভুক্তি সাফের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান বাড়াবে আশা আয়োজকদের।
এবারের আসরে র্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে ৯৯ নম্বরে থাকা লেবানন। তারা হট ফেভারিট, কিন্তু সম্প্রতি কন্টিনেন্টাল কাপে ভারতের সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা। তবে মূল মঞ্চে ভালো কিছু করতে আশাবাদী। তাতে করে এশিয়ান কাপের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জনও হয়ে যাবে।
এদিকে আরেক আমন্ত্রিত দল কুয়েত ২০১০ সালের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি হাতে নিতে মরিয়া। ১৪৩ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থেকে সাফ মিশনে নামছে তারা। সবশেষ প্রীতি ম্যাচে জাম্বিয়াকে ৩-০ ও সুদানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘আমন্ত্রণমূলক’ টুর্নামেন্টে নামছে তারা উজ্জীবিত থেকে।
সাফে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে আরেকটি দল- পাকিস্তান। ৯ বছর পর তারা ভারতের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে। মরিশাস থেকে ভিসা জটিলতার কারণে টুর্নামেন্ট শুরুর দিকে ভারতে পা রাখছে তারা এবং রাতেই স্বাগতিকদের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ খেলবে।
২০০৫ সালের পর থেকে আর কখনও সেমিফাইনালে পা রাখা হয়নি বাংলাদেশের। ২০ বছর ধরে ট্রফি নেই। হাভিয়ের কাবরেরার দল এবার সেই আক্ষেপ ঘুচাতে আশাবাদী। চলতি মাস থেকে তারা ক্যাম্প করেছে। কম্বোডিয়াতে স্থানীয় একটি দল ও জাতীয় দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় জামাল ভূঁইয়ারা। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন নবাগত লেবাননের সঙ্গে শুরু হবে তদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন।
দল পুরোপুরি প্রস্তুত, সেই কথা সংবাদ সম্মেলনে কাবরেরা বলেছেন, ‘আমরা দুই সপ্তাহের অনুশীলন করেছি। শুরুতে ঢাকায় সাত দিনের মতো ছিলাম। এরপর কম্বোডিয়াতে দুটি ম্যাচ খেলেছি। একটি স্থানীয় দলের বিপক্ষে অন্যটিতে প্রতিপক্ষ ছিল জাতীয় দল। আমরা ইতিবাচক ফল করেছিলাম। সেখান থেকে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বেঙ্গালুরুতে এসেছি। এখন আমার দল পুরোপুরি প্রস্তুত। গ্রুপটা ভালো হয়েছে। কঠিন দলের বিপক্ষে উজ্জীবিত হয়ে খেলবে দল।’
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ ও লেবাননের অন্য দুই প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ ও ভুটান। গত আসরে মালদ্বীপের কাছে শেষ মুহূর্তে হেরে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যায় বাংলাদেশের। এবার আর সেই ব্যর্থতার শিকার হতে চায় না জামালরা, সাফের লক্ষ্য নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘সাফে আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রথম ম্যাচে লেবাননের সঙ্গে পয়েন্ট নিতে পারলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যেতে চাই। অবশ্যই লক্ষ্য শিরোপা।’
আগের আসরগুলোতে ভারতই ছিল একমাত্র ফেভারিট। আর এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও দুই-তিনটি নাম। তাই লড়াই যে তীব্র হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভক্ত-সমর্থকরাও ঝাঁজালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় চাতক চোখে তাকিয়ে থাকবে।









