৩৫ বছর আগে দেশ ছেড়ে ইরানে আশ্রয় নিয়েছিল আমির উদ্দিন শরিফির পরিবার। সেখানে আমিরের জন্ম ও বেড়ে উঠা, এমনকি ফুটবলের সঙ্গে পরিচয়ও। নিজের দেশ আফগানিস্তানে খেলার সুযোগ সেভাবে কমই পান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ তেমন একটা হয় না বললেই চলে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার আমির উদ্দিন ঢাকায় এসেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে। যদিও গত দুই মৌসুম ধরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে এখানকার ফুটবল অনেকটা হাতের তালুর মতো চেনা-জানা। তাই বাংলাদেশের ফুটবল যে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতির পথে তা তার চোখ এড়ায়নি।
২০২১-২০২২ মৌসুমে পুলিশ এফসির হয়ে প্রথম বাংলাদেশে খেলতে আসেন আমির উদ্দিন। ১৭ ম্যাচে গোল করেছিলেন ৯টি। এবার ফর্টিস এফসির হয়ে এক ম্যাচ কম খেলে গোলসংখ্যা ৪টি। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন। তবে গোল মাত্র তিনটি। তার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ ফুটবল সম্পর্কে প্রশ্ন করতেই আমির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের ভালো জানা শোনা আছে। এখানে লিগে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। বাংলাদেশের ফুটবল উন্নতির পথে। এটা পরিষ্কার যে খেলোয়াড়দের মানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলেছে। ২০০৯ সালের পর নক আউট পর্যায়ে খেলে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে জামাল-তপুরা। তাই এবার ৪ ও ৭ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের প্রত্যাশা। তবে ম্যাচে কেমন ফল হবে তা আগে থেকে বলতে নারাজ আমির উদ্দিন। তার মত, ‘আফগানিস্তানকে বাংলাদেশ হারাতেও পারে। এটাই ফুটবল। আবার আমরাও জিততে পারি। তবে আগে থেকে অনুমান করা কঠিন।’
বাংলাদেশে দুই মৌসুম খেলে আমিরের উপলব্ধি এখানে স্থানীয়দের মধ্যে যোগ্য স্ট্রাইকার সংকট। বিষয়টি আগে থেকে বুঝতে পেরে আমির বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যোগ্য স্ট্রাইকার সংকট। এটা আমাদের জন্য ভালো দিক। তবে দল তো ১১ জন নিয়ে খেলবে। সুতরাং এখানে তারা জেতার জন্যই মাঠে নামবে।’
আফগানিস্তানে যুদ্ধের কারণে তার দেশে ফিফা-এএফসির ম্যাচ আয়োজন হচ্ছে না। বিশেষ করে বিশ্বকাপ বাছাই। এবারও তাদের হোম ভেন্যু তাজিকিস্তান। আমির বলছেন, ‘আমার ফুটবলের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখে খেলে যাচ্ছি। আমার বড় ভাই আফগানিস্তানের বিচ সকার দলের সদস্য। আমাদের পরিবারের কিছু সদস্য ইরান ও আফগানিস্তানে বসবাস করে। আমি চাই ফুটবলে আরও উন্নতি করতে। নিজের দেশে পাকিস্তান ও ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলেছি। অন্য ম্যাচ খেলা হচ্ছে না। এখানে কী বলার আছে।’
দলটির কুয়েতি কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি অবশ্য হোম ভেন্যুর সুবিধা পাবেন না জেনেও কোনও ছাড় দিতে নারাজ, ‘নিজেদের দেশে খেলা হচ্ছে না। এই বলে খেলোয়াড়দের কোনও অজুহাত দিলে চলবে না। আমি চাই যে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের সেরাটা দিতে পারে। তাহলে দল সাফল্য পাবে।’









