ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাজে রেফারিং নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজন। আজ এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেই শঙ্কাই সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে কিংস ১০ জনের দল হয়ে যায়। বিরতির পর ১০ জনের দলের বিপক্ষে দারুণ এক হেডে ওডিশা এফসি গোল করে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে। তাতেই গ্রুপ পর্ব থেকে কিংসকে বিদায় করে ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারতের এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা দলটি।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) নিজেদের মাঠে স্বাগতিকরা মধ্যমাঠের দখল নিয়ে কিংসের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। ২৮ মিনিট পর্যন্ত কিছুটা দাপট দেখায় ওডিশা। এই সময়ে কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সফল হতে পারেনি তারা।
ম্যাচঘড়ির ১১ মিনিটে ওডিশা ভালো সুযোগ পায়। রয় কৃষ্ণার ক্রস গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ পাঞ্চ করে ফেরান। এর আগে দুটো সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু কাজে লাগানো যায়নি।
২৮ মিনিটে কর্নার থেকে দেলগাদোর হেড পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। রক্ষণ জমাট করে প্রতি আক্রমণে উঠে খেলার চেষ্টা কিংসের। গুছিয়ে নিয়ে পরের মিনিটে রাগিব হোসেন আশা দেখিয়েছিল। তবে এই ফরোয়ার্ড একাই ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিলেও তা সোজা গোলকিপারের তালুতে জমা পড়ে।
৩৮ মিনিটে মিগেলের ফ্রি-কিক পোস্টের অনেক দূর দিয়ে গেলে সমর্থকরা হতাশ হয়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কিংসের সর্বনাশের শুরু। শেষ মিনিটে কিংস ১০ জনের দলে পরিণত। আশরর গফুরভ সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। আহমেদ জাহোকে পেছন থেকে এক পায়ে স্লাইড ট্যাকল করলে ভিয়েতনামের রেফারি সরাসরি মার্চিং অর্ডার দেখান। চোখের জ্বলে মাঠ ছাড়তে হয়েছে উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডারকে। এ নিয়ে ডাগ আউটে উচ্চবাচ্য করলে কোচ অস্কার ব্রুজনকেও দেখতে হয়েছে হলুদ কার্ড। বিরতির বাঁশি বাজানোর পর তো রেফারি মাঠ ছাড়ার সময় ব্রুজন তার সামনে দুই হাত তুলে প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
বিরতির পর ১০ জনের দলের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ওডিশা। কিংস এক পয়েন্টের জন্য খেললেও ভাগ্যকে কাছে পায়নি।
৪৯ মিনিটে মরিসিয়োর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শট গোলকিপার শ্রাবণ জায়গায় দাঁড়িয়ে তালুবন্দি করেন।
৬০ মিনিটে রয় কৃষ্ণার কোনাকুনি শট গোলকিপার এক হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। তবে পরের মিনিটে আর জাল অক্ষত রাখতে পারেননি। ৬১ মিনিটে কর্নার থেকে দীর্ঘদেহী মুর্তাদা ফল লাফিয়ে উঠে দারুণ হেডে জাল কাঁপান। শ্রাবণ বলের লাইনে ঝাঁপালেও এই যাত্রায় কিছুই করতে পারেননি।
৭৫ মিনিটে কর্নার থেকে মরিসিয়োর হেড পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। এর আগে রবিনিয়ো বক্সে ঢুকেও লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি।
পরের মিনিটে বিশ্বনাথের জায়গায় মোরসালিন নামেন। কিন্তু তাতে কিংসের গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি।
গ্রুপে ৬ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সেরা হয়ে নক আউট পর্বে ওডিশা এফসি। ১০ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হতে হয়েছে কিংসকে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো এএফসি কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ঢাকার লিগ চ্যাম্পিয়নদের।









