ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের মেয়ে মোসাম্মত সাগরিকা, বর্তমানে নারী ফুটবলের আলোচিত মুখ। উদীয়মান তারকাও। সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে তিন ম্যাচে চার গোল করে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন। এছাড়া ফাইনালে শেষ মুহূর্তের গোলটি দলকে যুগ্ম শিরোপা পেতে দারুণভাবে সহায়তা করেছে। তবে সবশেষ নারী ফুটবল লিগ থেকে সাগরিকাকে তৎকালীন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি জাতীয় বয়সভিত্তিক দলে নিতে চাননি, বরং তখনকার কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন জোর করে ঝুঁকি নিয়েই তাকে দলভুক্ত করেছিলেন। এমন খবর প্রকাশের পর স্মলি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সবশেষ নারী লিগ থেকে সাগরিকাকে বয়সভিত্তিক দলে টানেন তৎকালীন কোচ ছোটন। কিন্তু সেসময় তার শারীরিক গঠন দেখে কেউ কেউ তথা স্মলি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ছোটন অনেকটা জোর করেই বাফুফের আবাসিক ক্যাম্পে নিয়ে নেন তাকে।
মাত্র বছর দুয়েক যেতে না যেতেই ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল থেকে উঠে আসা এক দরিদ্র পরিবারের সেই কন্যা এখন দেশের নারী ফুটবলে আলোচিত মুখ। ছোটন তাই নিজেকে সার্থক মনে করছেন। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে স্মৃতি রোমন্থন করে আগেই বলেছিলেন, ‘সাগরিকার খেলা দেখে তখনই ভালো লেগে যায়। তখনই বুঝতে পারছিলাম ওকে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে দেশের ফুটবলে একদিন সম্পদ হবে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দিয়ে অন্তত তা পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। যদিও শুরুতে সাগরিকাকে নিতে চাননি তখনকার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি, বিশেষ করে তার শারীরিক গঠনের দিকে তাকিয়ে। আমি জোর করে ঝুঁকি নিয়েই দলভুক্ত করি।’
আজ স্মলি মালদ্বীপ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘এমন তথ্য আসলে ঠিক না, ভুল। সার্বিকভাবে অসত্য। আপনি এই সম্পর্কে যা যা তথ্য পেয়েছেন ও ছাপা হয়েছে তার অধিকাংশই ভুল। এখানে অনেক মিথ্যা রয়েছে।’
তবে সেই সময় কী হয়েছিল তা স্মলি পরিষ্কার করে বলতে রাজি হননি, ‘আমাকে কী ব্যাখ্যা করতে হবে? ওই সময় এমন কিছু হয়নি যা গল্প হতে পারে! এখানে আসলে কোনও গল্প নেই।’
স্মলির এমন ব্যাখ্যা শুনে জাতীয় দলের সাবেক কোচ ছোটন হেসেই বললেন, ‘স্মলি তো খেলোয়াড় বাছাই করতেন না সেভাবে। এখন তো উনি এসব কথা বলবেনই। কেননা সাগরিকা তো নিজের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তার ধারণা যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এটা তো তার পক্ষে মানা কঠিন।’
স্মলি মালদ্বীপের ফুটবলে বড় দায়িত্বে থাকলেও আবারও বাংলাদেশের মেয়েদের কোচ হয়ে আসার স্বপ্ন দেখছেন। যদিও উচ্চ বেতনে তাকে আনা নিয়ে বাফুফের মধ্যেই আগেই বড় আপত্তি উঠেছে। এখন দেখার সামনের দিকে কী হয়। সাইফুল বারী টিটু কাজ করে যাবেন নাকি স্মলি কিংবা নতুন কেউ..!









