প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক বিশেষ করে প্রথম পর্বের শেষ দিকে এসে ডালপালা বেশি মেলেছে। এনিয়ে ক্লাব ও ফুটবলারদের মধ্যে উষ্মা কম নয়। তাই স্বপ্রণোদিত হয়েই পেশাদার লিগ কমিটি বিদেশি রেফারি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরতির পর লিগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিদেশি রেফারি থাকবেন মাঠে। তবে বিদেশি রেফারিরাও যে শতভাগ নির্ভুল বাঁশি বাজাতে পারবেন, এ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশিদের কেউ কেউ।
এই তো কিছু দিন আগে ডিসেম্বর মাসের সেরা রেফারি হয়েছিলেন আলমগীর সরকার। যিনি গত বছর ভারতের বেঙ্গালুরুতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রেফারিং করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। ঠিক এখন তাদের রেফারিং নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে! তবে আলমগীর সরকার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন,‘আমরা শতভাগ নিরপক্ষ হয়েই মাঠে বাঁশি বাজিয়ে থাকি। এতে কোনও ভুল নেই। এখন সমস্যা হলো আমরা তো মানুষ। আমাদের তো ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। চেষ্টা করি এর উর্ধ্বে থেকে বাঁশি বাজাতে।’
মাঠে অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে বাঁশি বাজাতে হয় বলে আলমগীর মনে করিয়ে দিলেন, ‘বিশেষ করে বড় দলের ম্যাচ হলে আবহ থাকে অন্যরকম। একধরনের অদৃশ্য চাপও কাজ করে। সেটা মাঠের বাইরে। তারপরও আমরা নিরপেক্ষ বাঁশি বাজানোর চেষ্টা করি। যেন ম্যাচটি ঠিকঠাকভাবে শেষ হয়।’
মাঠে এখনও খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা গালিগালাজ করে থাকেন বলে দাবি আলমগীরের, ‘খেলা চলার সময় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা যেভাবে আমাদের গালিগালাজ করে থাকেন, তাতে মনে হয় গর্তে লুকিয়ে পড়ি! তা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিটি দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারাই তা কম বেশি করে থাকেন। আমরাও যে মানুষ, তা অনেকেই ভুলে যায়। তবে একটা দিক ভালো, আগের চেয়ে এর পরিমাণ কিছুটা কম। তাদের অন্যায়ের জন্য যথাসাধ্য কার্ডও দেখিয়ে থাকি। আগের চেয়ে রেফারিরা অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নেয়ও।’
লিগের বিরতির পর বিদেশি রেফারি আনা প্রসঙ্গে আলমগীর বলছেন অন্য কথা, ‘বিদেশি রেফারি আনলেই যে শতভাগ নির্ভুল বাঁশি বাজাবে, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? আপনাদের মনে আছে, বোধহয় গতবার কুমিল্লাতে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে বিদেশি রেফারি ছিল। সেই ম্যাচে কিন্তু একটা বড় ভুল হয়েছিল। এ নিয়ে কথাবার্তা কম হয়নি। আসলে আামাদের যদি আধুনিক সব প্রযুক্তি থাকতো, তাহলে হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে আরও সুবিধা হতো। আমি বলবো আগের চেয়ে আমাদের রেফারিদের মান বাড়ছে।’









