বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য নেপালের মাটি পয়মন্ত বললে ভুল হবে না, সেটা ছেলে বা মেয়ে যে দলই হোক না কেন। শুধু জাতীয় দল নয়, ক্লাবের বেলাতেও একই কথা প্রযোজ্য। একদিন আগে সাফ অনূর্ধ-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে ট্রফি নিয়ে আজ ফিরেছে সুরভী আকন্দ প্রীতি-ইয়ারজানরা। এই ট্রফি জয়ের পেছনে কোচ সাইফুল বারী টিটুর অবদানও কম নয়।
আজ ঢাকার বিমানবন্দরে কোচ, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছার পাশাপাশি মিষ্টি মুখও করা হয়েছে।
সাফের বয়সভিত্তিক দুটি আসরে টানা শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ। একটি ঢাকায়, অন্যটি কাঠমান্ডুতে। তাই টিটুর কাছে এমন জয়ের অনুভূতি অন্যরকম। দেশে ফিরে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন,‘ঢাকায় যুগ্মভাবে শিরোপা জিতেছিলাম। আর কাঠমান্ডুতে একক শিরোপা। আসলে দেশের বাইরে ট্রফি জেতার আনন্দটাই অন্যরকম। সেখানে সবকিছু ভিন্ন। তাই চ্যালেঞ্জটা বেশি। তবে ঢাকাতেও চ্যালেঞ্জটা কম নয়। দুই জায়গার জয়ের আনন্দ একটু ভিন্ন বলতে পারেন।’
মেয়েদের প্রশংসা করে টিটু বলেছেন,‘মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা মেনে বড় হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম করতে জানে। যা বলি, তা মেনে চলার চেষ্টা করে। এছাড়া মাঠে ওরা খেলেছে। ট্রফি জয়ের পেছনে ওদের কৃতিত্বটা বেশি। এখানে আমি শুধু কিছু দিন কোচিং করিয়েছি। খেলেছে তো ওরাই।’
ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পেছনে গোলকিপার ইয়ারজানের ভূমিকা কম নয়। তিনটি শটই রুখে দিয়ে দলকে ট্রফি এনে দিতে সহায়তা করেন। টিটু প্রশংসায় ভাসালেন পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা ইয়ারজানকে,‘আমরা আগেই টাইব্রেকার নিয়ে কাজ করেছিলাম। ইয়ারজান ভালো গোলকিপার। ওর পজিশন জ্ঞান বেশ ভালো। ও যা করেছে, তা অনন্য। টাইব্রেকারে যেভাবে সেভ করেছে, তাতে করে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতে বেশ সুবিধা হতে হয়েছে।’
তবে ঢাকার সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে সাডেন ডেথের শট শেষই হচ্ছিল না। টিটুকে কাঠমান্ডুতে সেই ভয়ও তাড়া করেছিল। তবে আত্মবিশ্বাস ছিল উৎরে যাবেন, ভালো করেই। টিটুর কথা, ‘ইয়ারজান ভালো গোলকিপার। ওর ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল অনেক। তবে টাইব্রেকার হতেই কিছুটা শঙ্কা ছিল। ঢাকার মতো না হয়! ভাগ্য ভালো তা হয়নি। নির্ধারিত ৫ শটেই খেলা শেষ হয়েছে।’
নেপালে এর আগে কয়েকটি শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় ও ক্লাব দল। ১৯৯৯ সালে এসএ গেমস ফুটবলে সোনার পদক জয় ও ২০১৫ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ নারীদের আঞ্চলিক ফুটবলের শিরোপা এসেছিল। মাঝে পোখরাতে শেখ জামাল জিতেছিল ক্লাব কাপের শিরোপা। সেটার আবার কোচ ছিলেন টিটু নিজেই।
তাই নিজেই মজা করে বলতে লাগলেন, ‘নেপালে আসলে আমরা ভালো করে আসছি। জাতীয় দল কিংবা নারী দল ট্রফি জিতেছে। ক্লাবও ভালো করেছে। সবই পরিশ্রমের ফল। তবে ভাগ্যও সহায়তা করেছে। এছাড়া মাঠে খেলেছে খেলোয়াড়রা। তাদের অবদান বেশি।’









