বুধবার রাতে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ জয়ী রাজিয়া খাতুন। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে লক্ষীনারায়নপুর গ্রামে ফুটফুটে শিশুর আগমনে বাড়িতে ছিল সীমাহীন আনন্দ। কিন্তু কে জানতো ভোর হতেই তা রুপ নেবে বিষাদে। অসুস্থ হয়ে ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মা রাজিয়া সুলতানা।
রাজিয়ার খালাতো ভাই মো. রোকোনুজ্জামান মোড়ল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বুধবার রাতে রাজিয়া গ্রামের বাড়িতে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এরপর তার কিছু জটিলতা দেখা দেয় এবং ভোর ৪টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।’
অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও রাজিয়াকে বাঁচানো যায়নি। রোকনুজ্জামান আরও বলেছেন, ‘জটিলতা দেখা দেওয়ার পর রাতে অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছিল। কিন্তু একটা সময় অবস্থা ভালো হওয়ায় সেই অ্যাম্বুলেন্স ফেরত পাঠানো হয়। এরপর ভোরের দিকে হঠাৎ করেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রাজিয়া। পরে আবার অ্যাম্বুলেন্স এনে তাকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।’ আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর রাজিয়াকে দাফন করার কথা রয়েছে।
একসময় বয়স ভিত্তিক দলে নিয়মিত ছিলেন রাজিয়া খাতুন। বাফুফের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়েছেন বছর চারেক আগে। এরপর ঘরোয়া লিগ খেলেছেন। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন গোলাম রব্বানী ছোটন। তাই রাজিয়াকে খুব কাছ থেকেই চেনেন তিনি। জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ বলেছেন, ‘২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে রাজিয়া খেলেছিল। পরের বছর সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ভুটানে চ্যাম্পিয়ন দলেও ছিল। সিনিয়র দলে ক্যাম্পও করেছে কিছু দিন। পারফরম্যান্স অবনতির জন্য ২০১৯ সালের দিকে ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ে।’
রাজিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে খুবই ব্যথিত জাতীয় দলের সতীর্থ সানজিদা আক্তার। ভারত থেকে ব্যথিত কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমাদের ক্যারিয়ার একই সময়েই শুরু মূলত। ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার পর ও লিগ খেলেছে এবং পরবর্তীতে বিয়ে করেছে। বাচ্চা হওয়ার পর মারা গেছে শুনে খুবই খারাপ লাগছে। আমরা একজন বন্ধু হারালাম। ’
এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর গতবার কাচারীপড়ার হয়ে নারী লিগ খেলেছিলেন রাজিয়া। বিয়ের দুই বছরের মাথায় অকাল মৃত্যু হলো এই সাবেক ফরোয়ার্ডের।









