এত অনিয়মের মধ্যে কীভাবে দেশের স্পোর্টস বেঁচে আছে, প্রশ্ন ক্রীড়া উপদেষ্টার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ অক্টোবর ২০২৪, ১৯:১১আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪, ১৯:১১

বাফুফে ভবনে প্রথমবার এসেছেন। তাই ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাহী কমিটির কারও সঙ্গে সভা করেননি। শুধু বেতনভুক্ত নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন। সেখানে দীর্ঘ বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। দেশের স্পোর্টস যে এখনও বেঁচে আছে, সেটা বিস্মিত করে ক্রীড়া উপদেষ্টাকে। 

২৬ অক্টোবর বাফুফেতে নির্বাচন। এনিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, ‘নির্বাচন  নিয়ে অনেক অভিযোগও এসেছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্যই মূলত বাফুফেতে আসা। আমি বলেছিলাম, নির্বাহী কমিটির কোনও সদস্য কিংবা নির্বাচনের কোনও প্রার্থীর না থাকাটাই ভালো হয়। বাইরে থেকে যতটুকু দেখেছি, বাফুফে নির্বাচন নিয়ে প্রতিবারই কোনও না কোনও বিতর্ক থাকে। আগের ফেডারেশনে যারা ছিলেন, তারা সবক্ষেত্রেই বিতর্কিত। কারও কারও ওপর তো ফিফার নিষেধাজ্ঞাও আছে।’

ফুটবলের জনপ্রিয়তা ভালোই জানা আছে তার, ‘বাংলাদেশের ফুটবলে যে ক্রেজ একটা সময় ছিল, ক্রেজ এখনও আছে। গ্রামের মাঠগুলোতে ফুটবলও হয়, ক্রিকেটও হয়। ক্রিকেট হলে ২০ জন দর্শকও থাকে না, ফুটবলে থাকে হাজার হাজার দর্শক। গাছে উঠে খেলা দেখে, এসব আমরা মূলধারা করতে পারিনি। ২০১০ পর্যন্ত ফুটবলে একটা ক্রেজ ছিল, সেটা দিনে দিনে নিচের দিকে গেছে। এটার জন্য দায়ী কিন্তু যে ফেডারেশনের কথা আপনারা বলছেন বা যারা দায়িত্ব ছিলেন, তারাই।'

নির্বাহী কমিটির কারও সঙ্গে না বসার কারণ ব্যাখ্যায় আসিফ বলেছেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এসব বিষয়ে আপনারা জানেন, দুদক কাজ করছে। এসব কারণেই মূলত তাদের সঙ্গে বসিনি। নির্বাহী যারা আছেন, আমরা তাদের সঙ্গে বসেছি।’

সারা দেশের মাঠ নিয়েও কথা বলতে হলো তাকে, ‘মাঠের ব্যাপারে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যেটা দেখলাম, আমাদের আসলে মাঠ যথেষ্ট পরিমাণই আছে, কিন্তু মাঠের ব্যাপারে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকার বা এগুলোর যত্ন না নেওয়ার কারণে এগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। আমি দুই দিন আগেও চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে গিয়েছিলাম। কিছু সংস্কার করলেই আমি মনে করি, এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে সুন্দর ফুটবল স্টেডিয়ামে রুপ দেওয়া যায়। যেহেতু চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম আছে, আমরা ভাবছি এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে ডেডিকেটেডলি ফুটবলের জন্য বরাদ্দ দিয়ে দেবো। পাশাপাশি যে মাঠগুলো আছে, সেগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।’ 

বাফুফে নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, ‘বাফুফের নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত আমার যাদের সঙ্গেই কথা হয়েছে, সাবেক ফুটবলার কিংবা ফুটবল সংশ্লিষ্টদের কাছে থেকে আমি দুঃখজনকভাবে ইতিবাচক কিছু পাইনি।’

আসিফের হাতে জাতীয় দলের জার্সি তুলে দেওয়া হয়

অন্য ফেডারেশগুলো নিয়েও আসিফের মূল্যায়ন, ‘ক্রিকেটই শুধু না, অন্য ফেডারেশনগুলোতেও নেক্সাস কাজ করেছে। একটা ফেডারেশনে দেখলাম একজন বসে আছে ৪০ বছর ধরে। এখন এই লোকটা থাকার সময় যদি পজিটিভ কিছু হতো, তাও একটা কথা, ভালো কিছু তো হয়ইনি, উল্টো খারাপ হয়েছে। কিছু জায়গায় কারও কারও পরিবারের সবাই সদস্য হয়ে বসে আছে। এই অনিয়মগুলো ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বক্ষেত্রেই ছিল। আমি তো মাঝেমধ্যে ভাবি, এত অনিয়মের মধ্যে কীভাবে দেশের স্পোর্টসটা বেঁচে আছে। বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ, স্পোর্টসের প্রতি মানুষের যে বিপুল আগ্রহ, সেটা।’ 

তিনি আরও বললেন, ‘সব সময় এখানে একটা কথা বলা হয়, বাফুফের ব্যাপারে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিলে ফিফা নিষেধাজ্ঞা দেবে। বাফুফের নামের মধ্যেই তো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আছে। বাংলাদেশ কথাটা আছে। বাংলাদেশ সরকারের যদি কোনও ভূমিকাই না থাকে, তাহলে তো নামের সার্থকতা থাকে না। আপনারা জানেন মাঠ বলেন বা অন্যান্য লজিস্টিকস, সরকারের একটা ভূমিকা থাকে। সে জায়গা থেকে আমরা একটা পলিসি নিয়েছি, পজিটিভ হস্তক্ষেপ বলেন আর ভূমিকা রাখা বলেন। এই জায়গায় আমাদের কিছু কাজ করার প্রয়োজন আছে। ফুটবলের ক্ষেত্রে এটা নিয়ে আমরা সকল স্টেক হোল্ডার্স, স্টেক হোল্ডারর্স বলতে যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছে, সাবেক ফুটবলার, সংগঠক, সবার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। আমরা জেলার টুর্নামেন্টগুলা আবার চালু করবো।’

জেলা ক্রীড়া ডিএফএ নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার কথা, ‘আমরা মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারি। সাধারণত একটা যোগাযোগ থাকে, কিন্তু ডিএফএর সঙ্গে সেটা থাকে না। এক্ষেত্রে পুরো ব্যর্থতার দায়টা আমি বাফুফেকেই দেবো। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এই সমন্বয়টা হবে, সুন্দর যোগাযোগ কীভাবে তৈরি করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। জেলার ফুটবলটা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে আনা যায় কিনা, সেটা নিয়ে ফিফার সঙ্গে কথা বলার আছে। বাফুফের সঙ্গেও সামনে এ ব্যাপারে আমরা কথা বলবো, যোগাযোগ করবো।’

ডিএফএ নির্বাচন আসলেই  অনেকেই ভোট বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সোজাসাপ্টা কথা, ‘ডিএফএ ভোট ব্যাংক আর ভোট কেনাবেচার একটা মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, ইলেকশন আসলেই ডিএফএ অ্যাকটিভ হয়। আমি যে অভিযোগগুলো পাচ্ছি, ইলেকশন আসলেই এগুলো অ্যাকটিভ হয়, বাকি সময় এরা নিষ্ক্রিয়। ডিএফএর কাজ হওয়া উচিত স্থানীয়ভাবে ফুটবলকে তুলে আনা। বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা, টুর্নামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করা। এ ব্যাপারগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, অবশ্যই ফিফাসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা বসবো, কথা বলবো।’ 

সার্চ কমিটি কাজ করছে। অচিরেই কিছু দেখা যাবে বলে আশা তার, ‘আমরা সার্চ কমিটিতে নতুন এডহক কমিটি দিতে দুই মাস সময় দিয়েছি। এসব কমিটির এডহক কমিটি হওয়ার পরপরই এসব ফেডারেশনের খেলাধুলা কার্যক্রম শুরু হবে। কিছু ফেডারেশনের কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যেই সার্চ কমিটি আমাদের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া শুরু করেছে। আপনারা দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই কিছু ফেডারেশনে এডহক কমিটি দেখতে পাবেন।’ 

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন আসিফ, ‘বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ব্যাপারে বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৯৯ কোটি থেকে বেড়ে ১৫৮ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এটা নিয়ে আগে ফিজিবিলিট স্টাডিও করা হয়নি যে এই সংস্কারের লোড স্টেডিয়ামটি নিতে পারবে কিনা। আমার কাছে সংস্কার কাজের মেয়াদ বাড়ানোর ফাইল এসেছিল। আমি বলে দিয়েছি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। ফ্লাড লাইটের কাজ হয়তো শেষ হবে না, একটু সময় লাগবে। ডিসেম্বরের পরই খেলার জন্য স্টেডিয়াম উপযোগী হয়ে যাবে।’

/টিএ/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
মশক নিধন বৈজ্ঞানিক বিষয়, ডোবার পাশে সমাধান নেই: আসিফ মাহমুদ
‘কালশী বস্তির আগুনে ষড়যন্ত্রের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই’
‘টাকা নেওয়ার’ অভিযোগ: কুমিল্লার প্রশাসককে ‘মূর্খ’ বললেন আসিফ মাহমুদ
সর্বশেষ খবর
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী