পিটার বাটলারকে বয়কট করে আসছেন সাবিনাসহ ১৮ জন বিদ্রোহী ফুটবলার। আজ বাফুফের নারী উইং কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বিদ্রোহের অবসান হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে এনিয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন কিছু বলতে চাননি। কোচ বাটলার অবশ্য আগের অবস্থানে আছেন।
আজ মেয়েদের সঙ্গে সভা করে কিরণ বিদ্রোহের অবসানের ঘোষণা দেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্প বন্ধ হয়ে গেলে মেয়েরা বিরতিতে যাবে। এরপর ফিরে বাটলারের অধীনে অনুশীলন ও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আসবেন সাবিনারা।
তবে বাটলার ইস্যুটি এতদিন ঝুলে থাকাটাকে কেউই ভালো চোখে দেখেনি। আগে তাকে রাখার পক্ষে কথা বললেও আজ কিরণ বলছেন উল্টো কথা। সেই দায় বরং বাফুফের জরুরি কমিটির ওপর চাপালেন, ‘নারী উইং নিয়ে ভুল তথ্য যাচ্ছে সেটা পরিষ্কার করে বলতে চাই। নারী উইং খেলোয়াড়দের সঙ্গে এককভাবে ও একসঙ্গে বসেছিল। নারী উইং থেকে এই কোচকে না রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। কোচ নিয়োগ হয়েছে জরুরি কমিটির সভায়। যেখানে সভাপতি ও সহ-সভাপতিরা (সিনিয়র সহ-সভাপতিও আছেন) রয়েছেন।’
বিদ্রোহ নিয়ে মেয়েরা অবশ্য কোনও কথাই বলতে চাননি। বাফুফে ভবনের বাইরে শুধু ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন বললেন, ‘এ ব্যাপারে যা বলার আমাদের অধিনায়ক বলবেন।’
অধিনায়ক সাবিনার মুখেও কুলুপ। বিদ্রোহের অবসান হয়েছে। আদৌ বিষয়টি সত্যি কিনা? বাংলা ট্রিবিউনের এমন প্রশ্নের উত্তরে তার সরাসরি উত্তর, ‘নো কমেন্টস’।
অন্যদিকে ইংলিশ কোচ বাটলার যেন আগের অবস্থানেই আছেন। এক বার্তায় জানিয়েছেন, ‘আমি একজন কোচ ও বাবা, এবং অনেক সাধারণ বাংলাদেশির মতো আমারও একটি মেয়ে ও ছেলে আছে, আমি তাদের অন্যর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও নম্র হতে শেখাই, সেভাবে তাদেরকে লালন-পালন করি।’
এরপরই তার কথা, ‘আমি শুধু এটাই চাই যে, আমাকে সম্মান করা হোক, কিন্তু তা হয়নি। আমি নির্বোধ নই এবং বুঝতে পারি যে, কিছু ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য একটি খেলা হচ্ছে। তবে আমি প্রতিহিংসাপরায়ণ বা খারাপ নই। তবে আমি জাতীয় দলের জন্য মূল্যবান ও সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন করবো এবং সিদ্ধান্ত নেবো।’
২৬ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দুটি খেলতে ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল। ৫৮ বছর বয়সী কোচ আগের অবস্থানে থেকে বলেছেন, ‘এই ১৮ জনের মধ্যে কিছু খেলোয়াড় আছে, যাদের ফুটবল দক্ষতার প্রশংসা করি আমি। কিন্তু তারা দলের ভেতর-বাইরের কিছু মানুষ, পুরুষ এবং মহিলা দ্বারা জোরজবরদস্তির শিকার হয়েছিল। যেখানে আমাদের হাতে অনূর্ধ্ব-২০ বয়সী এমন কঠোর পরিশ্রমী এবং নম্র খেলোয়াড় আছে, সেখানে আশা করি, আমাকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করতে বাধ্য করা হবে না, আসুন আগামী কয়েক সপ্তাহের দিকে মনোনিবেশ করি।’









