পল স্মলি-গোলাম রব্বানী ছোটনের হাত ধরে বাংলাদেশের নারী ফুটবল সাফ অঞ্চলে সেরা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার মাত্র এক বছরে ঋতুপর্ণা-মনিকাদের নিয়ে গেছেন এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে। শুধু কী তাই। সাফের টানা শ্রেষ্ঠ তো রয়েছেই। সাবিনাদের বিদ্রোহ ও নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে এমন সাফল্য নিয়ে ৫৮ বছর বয়সী কোচ বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথার ঝাঁপি খুলে দিলেন।
বাংলা ট্রিবিউন: এক বছরে আপনি তিনটি সাফল্য পেলেন। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখানো। এমন সাফল্যের পেছনে রহস্যটা আবার শুনতে চাই...
পিটার বাটলার: সত্যিকারের ইতিবাচক ও সুস্থ কর্মপরিবেশ তৈরি করেছিলাম বলেই মূলত গত বছর আমরা সাফল্য পেয়েছিলাম। আমি অনেক আস্থা রেখেছিলাম এবং পাইপলাইন তৈরি করেছিলাম। তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা ছিল, দলে ফেরা সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছি তাদেরকে। বাকিটা সত্যিই ইতিহাস। পরে আমরা আর হোঁচট খাইনি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো আমরা সঠিক রাস্তায় আছি। আমরা খুবই, খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছি। এমন কিছু খেলোয়াড় এনেছি যাদের নাম কখনও লোকেরা শোনেনি। তারা সত্যিকারের ছাপ রেখেছে। আমরা অনেক দলের বিপক্ষে খেলেছি, যারা আমাদের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে। তাদের চেয়ে আমরা ভালো খেলেছি, পাত্তা দেইনি। এটাই আমাদের পাওয়া সাফল্যের মূলমন্ত্র, এটা রহস্য নয়। এটা কঠোর পরিশ্রম ও ভালো পরিকল্পনার সুফল।
একসঙ্গে সিনিয়র দল, জুনিয়র দল সামলাতে হচ্ছে আপনাকে। সাধারণত এমনটা হয় কম। কাজের ক্ষেত্রে তা কতটা চাপের...
পিটার বাটলার: হ্যাঁ, তিনটি দলের কোচিং করা কঠিন। এটা অসম্ভব। এটা সহজ নয়, কিন্তু আমি সুযোগটি উপভোগ করি। আমরা যা করেছি সেটা আমি সত্যিই উপভোগ করেছি। সাফল্য সব কিছু বলে। তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, একই সময়ে অনেক কাজ একসঙ্গে করা ঠিক নয়। এবং সেটা করতে গেলে সমস্যা তৈরি হবে। তাই আপনাকে বিচক্ষণ হতে হবে। আমার মনে হয় এটি পরিবর্তন হচ্ছে।
মেয়েদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো নিয়ে আপনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। ওরা তো ছেলেদের মতো সুযোগ-সুবিধা পায় না...
পিটার বাটলার: আসলে বাফুফের ভেতরের ক্যাম্প উপযুক্ত নয়। বসবাসের ‘অযোগ্য’, পরিষ্কার নয়, স্বাস্থ্যকর নয়। খেলোয়াড়দের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত এবং সৌভাগ্যক্রমে প্রেসিডেন্ট আমাদের সমর্থন করেছেন এবং তিনি মেয়েদের বাফুফে ভবনে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে আমাদের হোটেলে রেখেছেন, যার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এবং যেহেতু বাফুফে ভবনটি শুধু মেয়েদের জন্য নয় বরং সকলের থাকার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। সুযোগ সুবিধাও বাড়বে আশা করছি।
ঋতুপর্ণাদের নিয়ে, মানে সিনিয়র দল নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
পিটার বাটলার: আমি অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে আসছি। তবে আমি এটা তদারকি করবো। যেখানে প্রয়োজন সাহায্য করবো, কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৭ দলের জন্য ভুটানে যাব না। আমি অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে কাজ করে যাবো এএফসিতে। তারপর একটু বিরতি নেবো। আমি ইংল্যান্ড যাবো। আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তারপর ফিরবো। বৃষ্টি এড়াতে হবে। এই সেপ্টেম্বরের এই প্রথম সপ্তাহে সিনিয়র জাতীয় দলের সঙ্গে এএফসি কাপের প্রস্তুতির জন্য আবার শুরু করবো। নানান পরিকল্পনা আছে। দীর্ঘমেয়াদে ক্যাম্প সহ অনেক কিছুই। এ নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া আছে।
বাংলাদেশে মেয়েদের লিগ সেভাবে হয় না, এটা আসলে কতটুকু জরুরি?
পিটার বাটলার: এটা বেমানান। খেলোযাড়দের জন্য প্রতি বছর এটা হওয়া অপরিহার্য। আমি আশা করি একটি লিগ তৈরি হবে। আমাদের একটি লিগ দরকার। আমি বলতে চাইছি, আমি ভুটানে খেলোয়াড়দের খেলার বিরুদ্ধে নই কারণ এটি কিছুই না থাকার চেয়ে ভালো। আমাদের একটি লিগ দরকার। আমার দৃষ্টিভঙ্গি সহজ। আমাদের একটি লিগ দরকার। কম বেশি হলেও। তাই প্রথম বছর ছয়টি দল দিয়ে হলেও শুরু করার জন্য যথেষ্ট।
লিগে খেলোয়াড়দের কীভাবে খেলানো উচিত তা নিয়ে কথা বলছিলেন আপনি..
পিটার বাটলার: আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে এখন থেকে আমার সঙ্গে বা আমার প্রশিক্ষণ স্কোয়াডে যারা আছে তাদের নভেম্বরে সেই লিগে অংশ নেওয়া উচিত নয়। তাদের ত্রিদেশীয় অথবা চার দলের মিনি-টুর্নামেন্টের অংশ হওয়া উচিত। তবে আমার মতে, মেয়েদের লিগটি একটি অনূর্ধ্ব-২৩ লিগ হওয়া উচিত। এবং আপনার তিনজন বয়স্ক খেলোয়াড়কে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। আপনি জানেন, ২৯, ৩০, ৩৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়রা লিগে খেলছে। এটি অন্য দেশে ঘটে না। আমাদের কিছু কঠোর নির্দেশিকা প্রয়োজন। ২৩ বছরের কম বয়সী এবং সম্ভবত তিনজন বয়স্ক খেলোয়াড়। এবং আপনি এতে তিনজনের বেশি জাতীয় দলের খেলোয়াড় রাখতে পারবেন না। এটাই আমার মতামত। এটি কাজ করবে।
বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের অনেকেই এখন আপনার দলে ফিরেছেন। আবারও মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ২০২২ ও ২০২৪ সাফের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ ৫ জন খেলোয়াড় বাইরে আছেন। তাদেরকে সামনের দিকে দলে নেওয়ার কোনও ইচ্ছা আছে কিনা। মানে আপনার চিন্তা-ভাবনায় কোনও পরিবর্তন এসেছে কিনা...
পিটার বাটলার: এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।(তবে সুত্র বলছে বাটলার আগের না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছেন।)
আপনার মেয়াদে বাংলাদেশের ফুটবলকে কোথায় দেখতে চান..
পিটার বাটলার: আমি জানি না আমি এখানে কতদিন থাকবো। আমার কোনও ধারণা নেই। আমি সত্যিই তাদের জন্য অপেক্ষা করেছি... যারা সত্যিই চেয়েছিল আমি এখানে থাকি, তাদের সুরক্ষা দেই এবং তাদের সাহায্য করি। আমি তাদের সাফল্য দেখতে এবং দেশের বাইরে আরও শক্তিশালী লিগে খেলতে দেখতে চাই। এটা আমাকে অনেক আনন্দ দেবে, কিন্তু মেয়েদের উন্নতি করতে, খেলতে এবং সিনিয়র জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে দেখা তৃপ্তিদায়ক।
এশিয়ান কাপে কোনও দলেকে হারানো সম্ভব মনে করেন কিনা..
পিটার বাটলার: এশিয়ান কাপ, অস্ট্রেলিয়ার মতো যে কোনও দেশ হোক না কেন, আমার লক্ষ্য মূলত উন্নতি করা, প্রভাব রাখা, মানুষকে দেখাতে হবে যে আমরা ভালো ফুটবল খেলতে পারি এবং বাংলাদেশের ফুটবলকে মানচিত্রে তুলে ধরতে পারি, এটাই সহজ কথা।









