আগের দিন রাতে ইরান থেকে ঢাকায় এসে আজ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশে প্রথম ফুটসালের বিদেশি কোচ সাঈদ খোদারাহমি। গরমের মধ্যেও বেশ কেতাদুরস্ত ৫৯ বছর বয়সী কোচ। সুটেড-বুটেড হয়ে ফুটসাল নিয়ে নিজের ভিশন ছাড়াও বাংলাদেশে নতুন করে সূচনার ব্যাপারে আশার কথা শোনালেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের খাবার প্রসঙ্গও এসেছে।
এএফসি ফুটসাল বাছাইয়ের অভিষেক আসরে বাংলাদেশ কঠিন গ্রুপে পড়েছে। ইরান ও স্বাগতিক মালয়েশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে লড়তে হবে তাদের। ২০-২৪ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে বাছাই পর্ব। বাছাইয়ে বাংলাদেশের গ্রুপের ম্যাচগুলো হবে মালয়েশিয়ায়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাছাই শুরু করবে বাংলাদেশ। ২২ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক মালয়েশিয়া এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলবে পরের দুই ম্যাচ।
আটটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি সেরা সাত রানার্সআপ আগামী বছর ইন্দোনেশিয়ায় চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ দল গঠনে কাজ শুরু হয়েছে। ইরানের কোচ মঙ্গলবার ও বুধবারের ট্রায়াল থেকে খেলোয়াড় কমিয়ে আনবেন।
আজ রবিবার বাফুফে ভবনে দেশের শীর্ষ ফুটবল সংস্থার সভাপতি তাবিথ আউয়ালের পাশে বসে ফুটসাল নিয়ে সাঈদ খোদারাহমি শুরুতে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘গতকাল রাতে আমি প্রথমবারের মতো আপনাদের দেশে আসি। আমার দায়িত্বটা খুবই কঠিন। আজ আমি আপনাদের প্রশ্ন করতে চাই। বাংলাদেশে আপনাদের ফুটসাল স্টেডিয়াম কয়টি। ফুটসালে কতজন কোচ, কতজন রেফারি ও কতজন খেলোয়াড় আছে। আমি মনে করি আজ আপনাদের দেশে ফুটসাল জন্ম নিয়েছে। আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন।’
খোদারাহমি এর আগে মিয়ানমারে ৫ বছর ছিলেন। র্যাঙ্কিংও কমিয়ে আনেন। ইরানি কোচ তাই বলেছেন, ‘আপনাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে আমি পাঁচ বছর কাজ করেছি। সেখানেও একই কথা বলেছি। দয়া করে সবাই সমর্থন করবেন। হয়তো আমি কোনও সময় ভুল করবো। তবে আমাকে জানাবেন। আমি খুশি হবো। আমাকে ভালো বলার দরকার নেই। উন্নতির জন্য সমর্থন করবেন, ধ্বংস করার জন্য নয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিকল্পনা শুরু হচ্ছে।’
বাংলাদেশে ফুটসাল নিয়ে তিনি বললেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ফুটসালের ভবিষ্যৎ খুব শক্তিশালী। আমি অনুরোধ করছি, সবাই হাতে হাত ধরে কাজ করবেন। কারণ ফুটসাল এখন শিশু। আর শিশুদের সহায়তা প্রয়োজন।’
নিজের দেশের ফুটসাল অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দিলেন কোচ, ‘ইরানে ফুটসাল শুরু হয়েছে ৩৫ বছর আগে। এখানে অনেক স্টেডিয়াম আছে। আমার শহর ইসফানে ১ হাজারের বেশি স্টেডিয়াম আছে। প্রতিটি গ্রামে একটি করে ফুটসাল স্টেডিয়াম আছে। ছেলে-মেয়ে সবাই সেখানে ফুটসাল খেলে।’
বাংলাদেশে আসার আগে ইরানি কোচকে তার পরিবার সাবধান বাণীও দিয়েছিল। খোদারাহমি নিজেই বললেন, ‘এখানে আসার আগে পরিবার সতর্ক করেছিল, বাংলাদেশি খাবার খেতে পারবে না। তবে ২৪ ঘণ্টা হলো এখানে আছি, মনে হচ্ছে যেন ইরানেই আছি। আমি আশা করি, আমি আবার ইরানে ফিরে যাবো। কিন্তু জানি না, কবে। আমি এখানে ভালো আছি।’
বাংলাদেশ নিয়ে কোচের আরও কথা, ‘আপনার দেশে ১৬ কোটির বেশি মানুষ আছে। শুধু ঢাকায় নয়, অন্যান্য জেলায়ও। আমরা অন্য জেলাগুলোকে ভুলে যেতে পারি না। কারণ আমার পরিকল্পনা এবং সভাপতির পরিকল্পনা সারা দেশের জন্য। হতে পারে বাংলাদেশের কোথাও তারকা খেলোয়াড় আছে। আমাদের একসঙ্গে সেই খেলোয়াড়কে খুঁজতে হবে। কারণ ভালো ফলাফলের জন্য তারকা খেলোয়াড় থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ খেলোয়াড় দিয়ে হয় না। কিন্তু প্রতিভাবান খেলোয়াড় কীভাবে খুঁজে বের করবেন? আপনাকে একটি শক্তিশালী লিগ গড়ে তুলতে হবে। সব জেলায়, সব অঞ্চলে স্টেডিয়াম দরকার। আমার ধারণা মিডিয়া খুব শক্তিশালী। মিডিয়া দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।’









