ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। ভ্যাট ও আয়করসহ এর মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের প্রায় পুরোটাই বিজ্ঞাপন ও সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে উঠে আসবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ফিফার সঙ্গে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। ভ্যাট ও আয়কর যুক্ত হলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।
তবে সরকার বা বিটিভিকে এ জন্য কোনও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও নীতিমালার আলোকে এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। টেলিকম অপারেটর, স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে বিজ্ঞাপন এবং সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে প্রায় পুরো অর্থই আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রামীণফোন, বাংলালিংকসহ কয়েকটি টেলিকম অপারেটর এবং টি স্পোর্টস ও সময় টিভি বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ম্যাচগুলো দেখা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল বিটিভিকে যেন অতিরিক্ত কোনও আর্থিক বোঝা বহন করতে না হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ অর্থ পুনরুদ্ধারের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশও আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে উঠে আসবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কোনও ভর্তুকি প্রয়োজন হচ্ছে না এবং বিটিভিরও কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না।
অতীতের তুলনায় এবার কম ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব কেনা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আগে এ খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ছিল। স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়ী মূল্যে এবার চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হলেও বিটিভির আর্থিক লাভ হয়নি। তবে এবার সম্প্রচারস্বত্ব কেনার অর্থ প্রায় পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচ গভীর রাত ও ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা সফল হয়েছি।









