চার বছরের অপেক্ষার অবসান। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ, স্বপ্ন আর উন্মাদনাকে সঙ্গে নিয়ে পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম যৌথভাবে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। তিন দেশেই হচ্ছে উদ্বোধনী আয়োজন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আলোকসজ্জার সমন্বয়ে সাজানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয় মেক্সিকোর প্রাচীন মেসোআমেরিকান সভ্যতার নানা অনুষঙ্গ। ওলমেক, মায়া ও অ্যাজটেক সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনার পাশাপাশি আধুনিক মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও স্থান পায় অনুষ্ঠানে।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ‘মেসোআমেরিকান বল গেম’-এর সঙ্গে ফুটবলের একটি সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকেও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে আয়োজক দেশ মেক্সিকো।
মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনা, লোকজ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী কাগজশিল্প ‘পাপেল পিকাডো’র প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘ডায় ডায়’ পরিবেশন করেন শাকিরা ও নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়। এছাড়া অফিশিয়াল অ্যালবামের শিল্পীদের মধ্যে আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ক-গীতিকার টাইলা অংশ নেন।
এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে টুর্নামেন্টে। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ।
এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কাকতালীয়ভাবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপও শুরু হয়েছিল এই দুই দলের ম্যাচ দিয়ে।
এবার আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২৬ সালেও বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে এটি বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের কীর্তি গড়েছে।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে কানাডার টরন্টোতে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী আয়োজনের পর রাত ১টায় স্বাগতিক কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার।
টরন্টোর অনুষ্ঠানে কানাডার ইতিহাস ও গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে। এতে পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়, ভেজেড্রিম ও উইলিয়াম প্রিন্স।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লস অ্যাঞ্জেলসে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের পর সকাল ৭টায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র খেলবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।
লস অ্যাঞ্জেলসের অনুষ্ঠানে বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা ও টাইলারের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা।
দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় করতে এবার প্রতিটি ম্যাচের আগে নতুন ধরনের প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠান চালু করেছে ফিফা। খেলোয়াড়দের বিশেষ ওয়াকআউট, উন্নত স্টেডিয়াম উপস্থাপনা এবং বৃহৎ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী থাকবে এর অংশ হিসেবে।
আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে সুপার বোলের আদলে হাফটাইম শোও থাকছে, যা এবারের আসরে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।








