৩৮ থেকে ৩৯ বছরে পদার্পণ লিওনেল মেসির। এমন এক সময় ফুটবল জাদুকরের জন্মদিন পালন হচ্ছে যখন আর্জেন্টিনার সঙ্গে তিনি নিজেও উড়ছেন। এমন দিন বুঝি মেসির ক্যারিয়ারে কমই এসেছে। দলের টানা দুটি জয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে নক আউট পর্ব নিশ্চিত হয়েছে। দুটি জয়েই মেসির দারুণ অবদান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল। ফুরফুরে মেজাজের মেসির সামনে এখন জর্ডান বাধা। খেলতে পারলে ডালাসের সেই ম্যাচেও অভাবনীয় কিছু একটা করবেন, তা এখনই বলেই দেওয়া যায়।
মেসি এমন একজন খেলোয়াড় যার ক্যারিয়ারে তেমন কোনও অপ্রাপ্তি নেই। আটটি ব্যালন ডিঅর জিতেছেন। অধরা কাতার বিশ্বকাপ ও তার আগে কোপা জিতেছেন। ঘরোয়া আসরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা অসংখ্য ট্রফি তার ঝুলিতে।এবার যুক্তরাস্ট্রে বিশ্বকাপে যেখানে যাবেন সেখানেও মেসি বন্দনা। তার পায়ের জাদুকরি কাজ তাকে আলাদা করে রেখেছে। তিনি কী ভিনগ্রহের কেউ নাকি। এমন প্রশ্ন আগে থেকেই হয়ে আসছে।
কেউ কেউ তো তাকে ছুঁয়ে দেখে অবাকও হন। যখন সতীর্থ অনেকেই বুটজোড়া তুলে রেখেছেন। দিচ্ছেন ধারাভাষ্য কিংবা ডাগ আউটে নেতৃত্ব। মেসি সদর্পে মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন। তার অফুরন্ত ইচ্ছা শক্তি তাকে নিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। অমরত্ব তো আগেই পেয়েছেন। সমর্থক ও ভক্তদের ভালোবাসা দিনকে দিন বাড়ছেই। প্রত্যাশার চাপ বাড়িয়ে নিয়ে তা পূরণও করে যাচ্ছেন।
৩৯তম জন্মদিনে নাদিম হাসান রোহান নামে একজন ভক্ত আবেগঘন বার্তা লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ‘সেই জাদুমানবকে জন্মদিনের অফুরন্ত শুভেচ্ছা, যিনি আমাদের বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন যে নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে সবকিছুই সম্ভব। সম্ভবত আলবিসেলেস্তে (আর্জেন্টিনা) জার্সিতে আমরা তার শেষ কয়েকটি ম্যাচ দেখছি, কিন্তু সত্যি বলতে, কী দুর্দান্ত এক যাত্রাই না চলছে!’
অথচ কে ভেবেছিল রোজারিওর ধুলোবালি ওড়া রাস্তায় একটা ছোট্ট ছেলে পায়ে বল নিয়ে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ কাড়বেন। শত কোটি সমর্থককে দিনের পর দিন আনন্দ দিয়ে যাবেন। যার পায়ের নৈপুণ্যে মুগ্ধতায় বুঁদ হয়ে থাকবে সবাই।
সেই ছোট্রবেলতে শরীরে বাসা বাঁধা গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি থমকে যেতে পারতো ফুটবল ক্যারিয়ার। স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হতে পারতো। তখন বার্সেলোনার এক চিলতে কাগজ- একটি সাধারণ ন্যাপকিন পেপার হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে দামি দলিল।
সেই ন্যাপকিন পেপারে সই করেই বার্সায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি। ক্যাম্প ন্যু-র সবুজ ঘাসে ১৯ নম্বর জার্সি পরা লম্বা চুলের ছেলেটা যখন রোনালদিনহোর পাস থেকে আলতো চিপে ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটা করল, ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠ চিরে বেরিয়ে এসেছিল এক বিস্ময়। সেই বিস্ময়ের শুরু, তারপর টানা দুই দশক ধরে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নাস্তানাবুদ করেছেন নিজের ইশারায়। ফুটবল জাদুকর হলে যা হয়।
এই বয়সে এসে দুর্দমনীয় মেসি। বয়সকে শুধু সংখ্যা বানিয়ে এগিয়ে চলেছেন। দিচ্ছেন রেকর্ডের বন্যা বইয়ে।কোথায় থামবেন নিজেই জানেন না হয়তো। এরই মধ্যে ৩৯ তম জন্মদিবসে চারদিক থেকে শুভেচ্ছা পেতে শুরু করেছেন। এই ভালোবাসা অফুরান। শেষ হওয়ার নয়।
এমন উৎসবমুখর দিনে জাদুকর মেসির সামনে ভক্তদের জন্য নতুন কিছু প্রেরণা হয়ে থাকছে। মেসি নিজেও হয়তো সেটা উপলব্দি করতে পারছেন। ফুটবল জাদুকরের পা থেকে সমর্থক-ভক্তরা যে আরও সাফল্য-নৈপুন্য দেখতে চায়। এই দেখার যে শেষ নেই। শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি!







