বুয়েন্স আয়ার্সের তান্দিল শহরের বাসিন্দা ফাবিয়ান। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দিয়েগো ম্যারাডোনার খেলা দেখে ফুটবলের প্রতি অনুরাগ আরও বেড়েছে। সেই ভালোবাসা এখনও অটুট আছে। তাই ছেলে হুলিয়ানকে নিয়ে এবার প্রথম দেশের বাইরে বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্র চলে এসেছেন। লিওনেল মেসিদের হাতে আবারও ট্রফি দেখতে! বাবা-ছেলে জুটি শুধু মাঠেই খেলা দেখছেন না, অন্যদের সঙ্গে মেসিদের হোটেলের সামনেও ভিড় করছেন।
সবকিছুই তাদের ফুটবলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে মেসিদের প্রতি প্রত্যাশা যেন আরও বেড়েছে। তাদের সবাই চাইছেন আবারও নিউজার্সির মাঠে মেসিদের হাতে উঠুক ট্রফি। ডালাসে মেসিরা উঠেছেন এডলফাস হোটেলে। কানসাসে অনুশীলন করে ম্যাচের আগের দিন বিকালে সেই হোটেলে এসেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তাদের দেখতে আগে থেকে হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক। অন্য দেশের কেউ কেউ আছেন।
সেখানে পাওয়া গেলো তান্দিল শহর থেকে আসা ফাবিয়ান ও তার ছেলে হুলিয়ানকে। মেসিদের গাড়ি দেখা মাত্রই মনে হচ্ছিল হুমড়ি খাওয়ার অবস্থা। যে যার মতো ছবি তুলছিলেন। ভিডিও করছেন। গান গাইছেন। মেসি… মেসি… বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। আর যতো অনুপ্রেরণামূলক বার্তা তো আছেই। একপর্যায়ে মেসিদের হোটেলের ভেতরে চলে যাওয়ার কিছু সময় পর বাবা-ছেলের সঙ্গে কথা হলো।
বাংলাদেশি সাংবাদিক শুনেই চওড়া হাসি দিলেন। বাংলাদেশ নিয়ে এতদিনে তাদের কাছে বেশ ইতিবাচক বার্তাই আছে। বাবা স্প্যানিশ ছাড়া অন্য ভাষা জানেন না। শুরুতে জর্ডান ম্যাচের টিকিট আছে কিনা ইশারায় জানতে চাইছেন। যে করেই হোক জর্ডান ম্যাচ দেখতে চান। পাশ থেকে ছেলে হুলিয়ান জানালেন, “আমরা অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখেছি। এখন জর্ডান ম্যাচ দেখতে চাই। কিন্তু টিকিট নেই। বাবা ও আমি খুব করে চাইছি ম্যাচটি দেখতে। কোনও উপায় থাকলে একটু বলবেন।”
টিকিট নিয়ে সাংবাদিকদের কিছু করার নেই বলার পর যেন বাবা ফাবিয়ান কিছুটা হতাশই হলেন। তবে টিকিট না পেলেও ফেয়ার পার্কে বসে অন্য আর্জেন্টাইনদের সঙ্গে খেলা দেখার জন্য মনস্থির করে রেখেছেন। বিশ্বকাপের উৎসবে যে করেই হোক তারা সামিল থাকতে চান।
হুলিয়ান যেমন বলছিলেন, “বাবা ম্যারাডোনার পর মেসির ভক্ত। দুটি বিশ্বকাপই বাবা তাদের হাতে ট্রফি উঠতে দেখেছে। আমি টিভিতে কাতার বিশ্বকাপ দেখেছি। এবার চাইছি নিজেই মাঠে থেকে দলকে ট্রফি জিততে। জানি না সেই স্বপ্ন সত্যি হবে কিনা। তারপরও প্রথম বিশ্বকাপ চর্ম চোখে দেখতে পেরে অনেক খুশি। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।”
তবে এই উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য কম কষ্ট করতে হচ্ছে না তাদের। একবছর আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়েছে। চাকরির টাকা একটু একটু জমিয়ে বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হয়েছেন। সেটা জমিয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। হুলিয়ান বললেন, “আমাদের অধিকাংশই যারা বিশ্বকাপ দেখতে এসেছেন তারা সবাই একবছর আগে থেকে পরিকল্পনা করেছেন। একটু একটু করে টাকা জমিয়েছেন। আমাদের সবার স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ দেখা। হাজারো আর্জেন্টাইন এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ডালাসে রয়েছে ২০ হাজারের বেশি। মায়ামিতে তা দাঁড়াবে ৫০-৬০ হাজারে। এছাড়া সেখানে আগে থেকে তো আমাদের লোকজন বসবাস করেই। আসলে সবকিছুই প্যাশন থেকে। ফুটবলেই আমাদের বড় আবেগের জায়গা। ম্যারাডোনা-মেসি আমাদের গর্ব।”
আর্জেন্টাইনদের আবেগের জবাব মাঠে দিয়ে যাচ্ছেন মেসিরা। এখন টানা দুটি ট্রফি জিততে পারলে তা হবে বড় পাওয়া। সেই আশায় আছেন ফাবিয়ান-হুলিয়ানদের মতো লক্ষ কোটি সমর্থকরা।









