ম্যাচের তখনও ১১ মিনিটের মতো বাকি। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে জয়ের স্বপ্নে বিভোর মিসর বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় অঘটনের অপেক্ষায়। তখন অনেকেই ভাবতে শুরু করেন- বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পথচলা বুঝি এখানেই শেষ! কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও নিজের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো লিখে রাখে শেষ মুহূর্তে। তার ওপর মেসি যখন নিজে ম্যাজিক মোমেন্টস উপহার দিয়ে দলকে খেলায় ফেরান, তখন তো সেটার মাহাত্ম্য আরও বড়। যার অবদানে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের খোঁজে শেষ ষোলোতে ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা!
এমন প্রত্যাবর্তন রূপকথার গল্পেই দেখা মেলে। যেখানে শেষ বেলাতে ঘটে অকল্পনীয় সব ঘটনা। আর্জেন্টিনা তেমনই এক গল্প লিখেছে! মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতেছে তারা। বিদায়ের দুয়ার থেকে ফিরে আসা সেই লড়াইয়ে নিজের গোলেই সমতা ফেরান মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও সময়কে হার মানিয়ে যিনি লিখে চলেছেন নতুন নতুন অধ্যায়।
এই বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম গোল। তাতে গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হাল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। তবে সংখ্যার চেয়ে বড় ছিল শেষ দিকের আবেগঘন মুহূর্ত।
শেষ বাঁশি বাজতেই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুধারা। সেই কান্নায় ছিল স্বস্তি, ছিল লড়াই জিতে ফেরার তৃপ্তি, ছিল আরেকটি শিরোপার স্বপ্নকে আরেকটু সময় বাঁচিয়ে রাখার গভীর অনুভূতি।
মিসরের হৃদয় ভাঙলেও মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত মেসি যেন মনে করিয়ে দিলেন- ফুটবল শুধু গোল কিংবা ট্রফির গল্প নয়। এটি আবেগ, বিশ্বাস আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হার না মানার এক অবিশ্বাস্য গল্প।







