বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বাদ পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নরওয়ের সঙ্গে হারের পর নিজে কেঁদে বিশ্বব্যাপী কোটি ভক্তকেও কাঁদিয়েছিলেন দলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। তবে তার দুঃখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি সব দুঃখ ভুলে মেতেছেন জুয়া খেলা পোকারে। তবে সেখানেও ভাগ্য সহায় হয়নি নেইমারের।
গোল ডটকমের খবরে বলা হয়েছে, নেইমার ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাস ছেড়ে লাস ভেগাসের পোকার টেবিলের ফেবব্রিকসে গা ভাসিয়েছেন। শনিবার রাতে ২০২৬ ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকারের মর্যাদাপূর্ণ (১০ হাজার ডলারের) মেইন ইভেন্টে এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে অংশ নিতে দেখা গেছে, যার একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। পেশাদার স্তরের এই চড়া চালের জুয়ায় ফরোয়ার্ডের এটিই প্রথম পদচারণা নয়; ফক্স স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের টুর্নামেন্টেও তিনি ফাইনালে উঠেছিলেন।
তবে, এবার মনে হচ্ছে ভাগ্য তার একটু বেশিই দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। নেভাডায় আগের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও, বার্সেলোনা ও পিএসজির এই সাবেক তারকা প্রতিযোগিতার প্রথম দিনই (ডে ১) ছিটকে গেছেন। পোকার রুম থেকে তার এই দ্রুত বিদায় যেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই গ্রীষ্মের অকাল সমাপ্তির কথাই মনে করিয়ে দেয়— যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের হয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে তার।
কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারের একটি বড় ঘটনার পরপরই লাস ভেগাসের এই ঘটনাটি সামনে এলো। গত ৫ জুলাই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ ব্যবধানের পরাজয়ের পর, নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার অবসরের ঘোষণা দেন।
ফিটনেস সমস্যায় জর্জরিত থাকায় নেইমারের শেষ টুর্নামেন্টটি ছিল বেশ বাধা-বিপত্তিগ্রস্ত; ডান পায়ের কাফের চোট নিয়ে তিনি প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র দুটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পান। হলুদ জার্সিতে তার শেষ অবদান ছিল নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে করা একটি গোল, যা কেবল সান্ত্বনা হিসেবেই রয়ে গেছে; কারণ আর্লিং হাল্যান্ড এবং তার দল ততক্ষণে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছিল।
এদিকে পোকারের প্রতি নেইমারের ভালোবাসা কোনও গোপন বিষয় নয়, তবে এটি প্রায়শই সমর্থক এবং ক্লাব কর্মকর্তাদের ক্ষোভের কারণ হয়েছে। এই বছরের শুরুর দিকে, সান্তোসের এই ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে লিগের একটি ম্যাচ থেকে বাদ পড়ার পর তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টা অনলাইন পোকার খেলে কাটিয়েছেন। এই ঘটনাটি ব্রাজিলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয় যে, যখন তার ক্লাব পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে ধুঁকছিল, তখন পেশাদারিত্বের প্রতি তার মনোযোগ আসলে কতটা ছিল।









