শেষ দিকে অবিশ্বাস্য নাটক। পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রবিবার শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্ক্যালোনির দল।
মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই গোলেই ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল থমাস টুখেলের দল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। গোল শোধে একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। যদিও দারুণ দক্ষতায় দীর্ঘ সময় দলকে এগিয়ে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড।
প্রথমার্ধে শরীরি ফুটবলের প্রদর্শনী ছিলই বেশি। দেখে মনে হচ্ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের ছায়া বুঝি পড়েছে! ১৯টি ফাউলের এই অর্ধে গোল পায়নি কেউ। তবে বিরতি থেকে ফিরে দারুণ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে যার সূচনা করেন হ্যারি কেইন। মাঝমাঠে নেমে মরগান রজার্সকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে তা প্রতিহত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বিপদ কাটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান রজার্সের কাছে। ইংলিশ উইঙ্গারের নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর এক ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একাধিক সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। ৬৯ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ ছিল তাদের। লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে নিকোলাস গঞ্জালেসের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড। সাত মিনিট পর আবারও আর্জেন্টিনার সামনে সমতার সুযোগ আসে। প্রথমে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি হলেও পিকফোর্ড দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করেন।
তবে ৮৬ মিনিটে আর কিছুই করার ছিল না ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকের। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত শট জড়িয়ে যায় জালে। তাতেই ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে আবারও পোস্টে আঘাত হানে ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রচেষ্টা। তবে আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে কাছ থেকে হেডে জালে পাঠান বদলি ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ২-১ গোলের জয়।
শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো ইংল্যান্ডের।







