সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের ক্ষত ভুলে বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। মায়ামির চড়া গরমে ম্যাচ শুরুর প্রথমার্ধেই ফরাসি রক্ষণভাগকে পুরোপুরি খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ৪-০ ব্যবধানের পর্বতসম লিড নিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
৩ মিনিট: অধিনায়ক রাইসের জাদুকরী একক গোল (ফ্রান্স ০-১ ইংল্যান্ড)
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৩ মিনিট। মাঝমাঠে ফ্রান্সের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ফরাসি ডেরার দিকে ক্ষিপ্র গতিতে ড্রাইভ করেন আজকের ম্যাচে ইংল্যান্ডের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরা ডেক্লান রাইস। ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা তাকে আটকানোর চেয়ে শট নেওয়ার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার ভুল করতেই দূরপাল্লার এক অবিশ্বাস্য বুলেট গতির নিচু শটে বল জালের ডানদিকের নিচের কোণায় জড়ান এই আর্সেনাল মিডফিল্ডার।
১৯ মিনিট: কনসার হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ (ফ্রান্স ০-২ ইংল্যান্ড)
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ফ্রান্স যখন গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই কর্নার থেকে দ্বিতীয় আঘাতটি হানেন এজরি কনসা। অধিনায়ক ডেক্লান রাইসের নিখুঁত কর্নার কিকে ডি-বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে চমৎকার এক ফ্লিক করেন অ্যাস্টন ভিলার এই সেন্টার-ব্যাক। বলটি দূরপোস্টে লেগে জালের ভেতরে চলে গেলে উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো ইংলিশ শিবির।
৩৮ মিনিট: সাকার নাটকীয় গোল, স্কোরলাইন যেন অবিশ্বাস্য! (ফ্রান্স ০-৩ ইংল্যান্ড)
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে ম্যাচের চিত্রনাট্যকে আরও অবিশ্বাস্য বানিয়ে ছাড়েন বুকায়ো সাকা। মাঠের বাঁ প্রান্ত দিয়ে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা মার্কাস রাশফোর্ডকে দারুণ এক পাস বাড়ান সাকা। সামনে কেবল ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনোকে পেয়েও রাশফোর্ডের নেওয়া শটটি দুর্দান্তভাবে রুখে দেন মাইনো।
তবে ফিরতি বল পান সাকাই। বল নিয়ে মাইনোকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টায় কিছুটা পিছলে পড়ে যান এই আর্সেনাল উইঙ্গার। কিন্তু নাটকীয়তার তখনও বাকি! রাশফোর্ড আলগা বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাকা উঠে দাঁড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং বক্সে থাকা সাকাকে লক্ষ্য করে পাস বাড়ান। এবার আর কোনও ভুল করেননি সাকা, ঠান্ডা মাথায় বল ঠেলে দেন ফরাসি জালে। ধারাভাষ্যকারদের জন্য বর্ণনা করা কঠিন হলেও, ইংলিশ সমর্থকদের জন্য প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের এই লিড যেন স্বপ্নের মতো!
৪৫+২ মিনিট: সাকার জোড়া গোল, ফ্রান্সকে ছিন্নভিন্ন করলো থ্রি লায়ন্সরা! (ফ্রান্স ০-৪ ইংল্যান্ড)
খেলার প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+২ মিনিটে) ফরাসিদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই বুকায়ো সাকাই। যেন ছেলেখেলায় মেতে উঠেছে টুখেলের শিষ্যরা! মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্ডারের কাঁধের ওপর দিয়ে সাকাকে লক্ষ্য করে নিখুঁত এক পাস বাড়ান এবেরেচি এজে। ফরাসি ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে বলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন আর্সেনালের এই উইঙ্গার এবং শরীরটাকে দারুণভাবে ঘুরিয়ে ফরাসি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণায়। গোল করার পর সতীর্থ ইভান টোনির সাথে সাকার বুনো উদযাপনই বলে দিচ্ছিল— ম্যাচটি ইতিমধ্যে ফ্রান্সের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এক প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলের এই বিধ্বংসী ও রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়র্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স স্রেফ লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে লড়াই করবে, নাকি থমাস টুখেলের শিষ্যরা গোলের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল গলায় ঝুলাবে— সেটাই এখন দেখার বিষয়।









