জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে’ আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্রনেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা এই ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে ‘আল-সাদিক হৃদয়’ নামের একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি একটি জ্বলন্ত কাপড় স্মৃতি স্তম্ভটির দিকে নিক্ষেপ করছেন। কাপড়টি পড়ার পরপরই সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এর আগে ৯ জুন নেত্রকোনার জুলাই স্মৃতি স্তম্ভেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর আমরা কয়েকদিন পাহারা দিয়েছি। কিন্তু প্রতিদিন আমাদের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। এ ধরনের জাতীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল দায়িত্ব।”
তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এখনও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা ঘটছে।”
জামালপুর জেলা ছাত্রশক্তির নেতা আমিনুল ইহসান এই ঘটনাকে দেশের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আজ শনিবার তারা শুধু জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে নয়, বাংলাদেশের হৃদপিণ্ডে আগুন দিয়েছে। যারা এই ঘৃণ্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “নির্বাচনের পর বড় বড় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল ছোটখাটো লোকজনকে ধরা হচ্ছে। আমরা দাবি জানাই, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
ঘটনার খবর পেয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্মৃতি স্তম্ভের চারপাশ ঘুরে দেখেন এবং আলামত প্রত্যক্ষ করেন। তবে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, “সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।”









