‘কিছু মানুষ বলে মেসিও ভালো না, কাজেম আর সোহেল কি এক?’

তানজীম আহমেদ
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৮আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৮

ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রাথমিক দল থেকে বৃহস্পতিবার দুই প্রবাসীসহ ছয় ফুটবলারকে বাদ দিয়েছেন কোচ টমাস ডুলি। ২৮ সদস্যের দলে নতুন করে যোগ হয়েছেন জিদান ও ইউসুফ। খেলোয়াড় বাদ দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলেও বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জার্মান কোচ।

কিংস অ্যারেনায় অনুশীলনের ফাঁকে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলার সময় ডুলির প্রশ্ন, যারা সমালোচনা করছেন তারা আসলে কতটা অনুশীলন দেখেছেন? শুরুতেই তিনি বলেন, ‘বাইরে সবাই তো একেকজন কোচ। তারা ট্রেনিংই বা কতটুকু দেখেছে? সব ট্রেনিং সেশন না দেখে একজন কীভাবে জানবে, কোন খেলোয়াড়কে কেন বেছে নেওয়া হয় আর কাকে কেন বাদ দেওয়া হয়?’

সিনিয়র সোহেল রানা দলে থাকলেও কাজেম শাহ জায়গা পাননি। এ নিয়ে সমালোচনার জবাবে খেলোয়াড় দুজনের পজিশনের পার্থক্যই সামনে আনেন ডুলি, ‘কিছু মানুষ তো বলে মেসিও নাকি তেমন ভালো না। কাজেম আর সোহেল কি এক? সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়! একজন ৬ নম্বর, একজন ৮ নম্বর আর একজন ১০ নম্বর পজিশনের খেলোয়াড়। এর মধ্যকার পার্থক্য কি কেউ বোঝে? হয়তো আমার আবার রিলস পোস্ট করা শুরু করতে হবে এবং ফুটবল সম্পর্কে একটু বুঝিয়ে বলতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের নানা মন্তব্য নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। বলেছেন, ‘অনলাইনে যেসব প্রশ্ন আর মন্তব্য দেখি, তা সত্যিই তাজ্জব বানানোর মতো। মাঝে মাঝে মনে হয়, এরা ৯ বছরের বাচ্চা, যারা ফুটবল ভালোবাসে। কিন্তু পেশাদার ফুটবল আসলে কী জিনিস, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।’

দলে ‘সিন্ডিকেট’ থাকার অভিযোগও সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন ডুলি। এ ধরনের অভিযোগে রীতিমতো বিরক্ত তিনি, ‘এসব ফালতু কথা আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমার পছন্দের খেলোয়াড় না খেললে কিংবা আমার অপছন্দের খেলোয়াড় খেললেই নাকি সেটা সিন্ডিকেট। বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়রা যখন জাতীয় দলে খেলে, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড তো তখন বলে না যে ফেডারেশন আর হেড কোচ কোনো সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। কী বাজে কথা।’

বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের একটি অংশের মানসিকতাকেও সমস্যার জায়গা হিসেবে দেখছেন ডুলি। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশে আমি সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা দেখছি, তাহলো সমর্থকদের ধারণা, তাদের চাহিদার বাইরে কিছু গেলেই নাকি সেখানে সিন্ডিকেট কাজ করছে। আমি আবার বড় অক্ষরে বলছি, এ পর্যন্ত কেউ কখনও আমাকে বলেনি যে এই খেলোয়াড়কে বা ওই খেলোয়াড়কে রাখতেই হবে। কিংবা অমুককে খেলাতেই হবে আর অমুককে খেলানো যাবে না।’

ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বরং নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাই পেয়েছেন বলে জানান ডুলি। তিনি বলেছেন, ‘‘ফেডারেশন বা অন্য যেকোনো মানুষের কাছ থেকে আমি এটাই শুনে এসেছি, ‘আপনার যা ইচ্ছা তা-ই করুন। আপনিই বস এবং আমি সেরা পারফরম্যান্সই দেখতে চাই।’ আমার কি মাঝে মাঝে ভুল হয় না? অবশ্যই হয়, কেউই তো নিখুঁত নয়।’’

শেষ দিকে অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা নিয়ে নিজের অবস্থান বদলের ইঙ্গিতও দিয়েছেন ডুলি, ‘তাই আমি বিষয়গুলো খেয়াল রাখবো এবং খুব জলদি হয়তো কোনো কথা বলা বন্ধ করে দেবো। তখন তারা যা খুশি লিখতে, বলতে বা ছাপাতে পারে। তারা তো এমনিতেও তা-ই করবে।’

 

/এফআইআর/
সম্পর্কিত
বাংলাদেশের জার্সিতে জাপানি সুকি, জয় এনে দিলেন মোরসালিন-ইমন
কমলাপুর ও সিলেট স্টেডিয়াম এখন বাফুফের
বাংলাদেশ দলের নতুন জার্সির দাম ১৬০০ টাকা!
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি, ৬ বিল পাস
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি, ৬ বিল পাস
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো আলজেরিয়া
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো আলজেরিয়া
জননন্দিত ‘শেখ মুজিব’ই জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর দেন’ 
সংসদে জামায়াত আমিরজননন্দিত ‘শেখ মুজিব’ই জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর দেন’ 
সর্বাধিক পঠিত
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
রয়টার্স এক্সক্লুসিভডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি