হেরে গেলেই বিদায়। জয় বা ড্র ছাড়া কেএফসি স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার আর কোনও পথ নেই ঢাকা আবাহনীর। এমন পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেলকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ঢাকা আবাহনী।
ম্যাচে বদলি ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা দ্বিতীয়ার্ধে করেন জয়সূচক গোলটি। আগামী ৩ মে প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ও ঢাকা আবাহনী। এরপর দিন ৪ মে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে শেখ রাসেল ও চট্টগ্রাম আবাহনী।
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় রাসেল। চতুর্থ মিনিটে শেখ রাসেলের ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে আক্রমণে ধার হারায় শেখ রাসেল।
আবাহনীর ছোট ছোট পাসে খেলার কৌশলের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণ কৌশল বেছে নেয় শেখ রাসেল। সানডে চিজোবা, কামারা সাররা ও লি টাককে নিয়ে শুরুতে ম্যাচের আধিপত্য নিয়ে নেয় আবাহনী। রাসেলের ইথিওপিয়ান ফরোয়ার্ড ফিকরু তেফেরাকে কড়া নজরে রাখে আবাহনী ডিফেন্স। ফিকরু যেহেতু বল প্লেয়ার নন, সতীর্থদের যোগানের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। তাই তার কাছে বল যোগান বন্ধ করার কৌশল নেয় আবাহনী। অধিনায়ক আরিফুল ইসলাম ও ডিফেন্ডার মামুন মিয়া ঘিরে রাখেন ফিকরুকে। রাসেলের মাঝমাঠ থেকে খুব বেশি বল পৌঁছায়নি ফিকরুর পায়ে। তবে ২৬ মিনিটে ফিকরুই প্রথমার্ধে ও প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণটি করেন। মাঝমাঠ থেকে মোনায়েম খান রাজুর থ্রু পাস নিয়ে ফিকরু ঢুকে পড়েছিলেন আবাহনী শিবিরে। বক্সের মাঝামাঝি স্লাইডিং ট্যাকল করে ফিকরুকে রুখে দেন মামুন মিয়া। সঙ্গে সঙ্গে বিপদমুক্ত হয় আবাহনী।
আবাহনীও এসেছিল গোলের কাছাকাছি। ৪০ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মাপা ক্রস করেছিলেন আবাহনী উইঙ্গার ফয়সাল মাহমুদ। দীর্ঘদেহী কামারা সাররা লাফিয়ে ওঠে বল প্লেস করেন। রাসেল গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটন দর্শনীয়ভাবে বাতাসে শরীর ভাসিয়ে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীর আক্রমণাত্মক মনোভাব অব্যাহত থাকে। চার মিনিটে টানা তিনটি আক্রমণ করে আবাহনী। এর মাঝে শেষটিতে তারা দেখে গোলের মুখ। ৬৮ মিনিটে লি টাকের করা একটি বাঁকানো ফ্রি কিকে আবারও ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন রাসেল মাহমুদ লিটন। ৬৯ মিসিটে কামারা সাররা ও সানডে চিঝোবার ওয়ান-টুতে পরাস্ত হয় রাসেল ডিফেন্স। সানডে ছিলেন সুবিধাজনক অবস্থানে, কিন্তু বক্সের বাম প্রান্ত থেকে নেওয়া তার জোরালো শটটি পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
৭১ মিনিটে এগিয়ে যায় আবাহনী, বক্সের ওপর ব্যাক হিল করে আগুয়ান জুয়েল রানাকে বল উন্মুক্ত করে দেন কামারা সাররা। রাসেল ডিফেন্ডাররা গ্যাপ বন্ধ করার আগেই দ্রুত গতিতে নিজ মার্কারকে টপকে যান জুয়েল রানা। ডান পায়ের গ্রাউন্ডারে বল জড়িয়ে দেন কাছের পোস্টে। শেষ পর্যন্ত এটিই হয়ে দাঁড়ায় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান।
/আরএম/এফআইআর/








