এএফসি কাপে গ্রুপ ‘ই’তে টানা চার হারের পর প্রথম জয়ের মুখ দেখলো শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে সিংগাপুরের ট্যাম্পাইন্স রোভার্সকে।
পুরো ম্যাচে অনবদ্য খেলেছেন হাইতিয়ান অধিনায়ক ওয়েডসন এনসেলমে। চমৎকার গোল কিপিং করেছেন গোলরক্ষক হিমেল। এককথায় তুখোড় টিমওয়ার্কে প্রথম জয়ের মুখ দেখে এএফসির দ্বিতীয় সারির প্রতিযোগিতা এএফসি কাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।
১৬ মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে দলকে রক্ষা করেন শেখ জামাল গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম হিমেল। মিডফিল্ডার জর্ডান ওয়েবের লম্বা থ্রোইন খুঁজে পেয়েছিল ফরোয়ার্ড বিলি মেহমেটের মাথা। ব্যাক হেড করে তিনি বল পাঠিয়ে দেন ছোট বক্সের উপরে। ফাঁকায় দাঁড়ানো ফরোয়ার্ড শাহরুল হামিদ ড্রপ হেড করেন কিন্তু চমৎকার রিফ্লেক্সে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান হিমেল।
জামাল পাল্টা আক্রমণ চালায় ১৯ মিনিটে এবং জুয়েল রানার ক্রসে ওয়েডসনের হেড ট্যাম্পাইন্স রোভার্সের ক্রস পিসে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু পরের মিনিটেই গোলের হাসি হাসে শেখ জামাল। অধিনায়ক ওয়েডসন এনসেলমে বল নিয়ে প্রতিপক্ষ শিবিরে ঢুকে স্কয়ার পাস দেন এমেকা ডার্লিংটনকে। এমেকা শট না নিয়ে বল এগিয়ে দেন ল্যান্ডিং ডারবোকে। গ্যাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড কোনাকুনি শটে বল জড়িয়ে দেন। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে সমতা আনে ট্যাম্পাইন্স রোভার্স। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া লিগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল ও লিভারপুলের জেরমাইন পেনান্টের চমৎকার কর্নারে হেড করে সমতা আনেন মুস্তফা ফাহরুদ্দিন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আবারও রোভার্সের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে জামাল, আর তার সুফলও তুলে নেয় তারা। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এনামুলের বাড়নো থ্রু পাস বাম প্রান্তে আয়ত্ত্বে নেন ওয়েডসন। ইনসাইড-আউটসাইড করে তিনি পাশ কাটিয়ে যান ডিফেন্ডার মোস্তফা ফাহরুদ্দিনকে। উপায় না দেখে তাকে ব্যাক ট্যাকল করে ফেলে দেন ফাহরুদ্দিন। পেনাল্টি করেন ওয়েডসন।
৭০ মিনিটে আবারও ম্যাচে ফিরে আসে রোভার্স। ফরোয়ার্ড বিলি মেহমেত গোলরক্ষক হিমেলের পাঞ্চ করা বলে প্লেস করেন। বল ঠাঁই নেয় মাঝ জালে।কিন্তু হতোদ্যম না হয়ে খেলে যায় জামাল এবং ৮২ মিনিটে ল্যান্ডিং ডারবো করেন জয়সূচক গোলটি। ওয়েডসন বল তৈরি করে দেন ল্যান্ডিংকে। বক্সের মাঝামাঝি অবস্থান থেকে ঠাণ্ডা মাথায় প্লেসিং শটে গোল করেন হাইতিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
বাকি সময়টুকু ডিফেন্সিভ মেজাজে খেলে কাটিয়ে দেয় জামাল। আর রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ উল্লাসে উদযাপন করে প্রথম জয়।
/আরএম/এফআইআর/








