গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে খেলা শেষের মাত্র দশ সেকেন্ড আগে মিডফিল্ডার আরশাদ হোসেনের করা গোলে পাওয়ারহাউজ আবাহনীর বিপক্ষে ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্র ছিনিয়ে নিয়েছে মেরিনার্স। এ ড্রয়ে শিরোপা লড়াইয়েও টিকে রইলো আরামবাগের দলটি।
বুধবার বৃষ্টির কারণে আধ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় ম্যাচটি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করে। তবে মেরিনার্সের কৌশল ছিল কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর। আবাহনী দুই প্রান্ত ও মাঝমাঠ ব্যবহার করে বেশি আক্রমণ করে। বল পজেশনে আবাহনী এগিয়ে ছিল। তবে বিদেশি খেলোয়াড় সংখ্যায় পিছিয়ে থেকে মেরিনার্সের অনন্য মনোবল শেষ পর্যন্ত তাদেরকে হার এড়াতে সাহায্য করে। আবাহনীর চার বিদেশির বিপরীতে মেরিনার্সে খেলেছেন দুই জন। আর ম্যাচের শেষ প্রান্তে মনসংযোগহীনতা এবং অতি আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত জয় বঞ্চিত করে আবাহনীকে।
ম্যাচে রাজু আহমেদ তপুর গোলে ৭ মিনিটে লিড নেয় মেরিনার্স। হাফ লাইন থেকে লং হিট ছিল। আবাহনীর গোলরক্ষক অসীম গোপের প্যাডে লাগে। ফিরতি বলে পুশ করে বোর্ডে বল লাগান তপু। সাত মিনিট পর আবার আবাহনী ম্যাচে সমতা আনে। দেশের হকির উদীয়মান তারকা রোম্মন সরকারের রিভার্স হিট মেরিনার্সের গোলরক্ষক মেহরাব হোসেন কিরণ প্রতিহত করতে পারেননি। তার প্যাডের ফাঁক দিয়ে বল পোস্টে যায়। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়নের ভুলে পিছিয়ে পড়ে মেরিনার্স। নিজেদের সার্কেলের সামনে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন চয়ন। ৩০ মিনিটে ইরফানের হিটে স্টিক ছুঁইয়ে গোল করেন পাকিস্তানি তারকা শাফকাত রাসুল। প্রথমার্ধ শেষ হয় আবাহনীর ২-১ গোলের অগ্রগামিতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে মেরিনার্স ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আবাহনী ব্যবধান বাড়ায়। বাম প্রান্তে শেখ মো. নান্নু ও শাফকাত রাসুল ওয়ান টু করে ভেদ করেন মেরিনার্স ডিফেন্স। ৪৩ মিনিটে ব্যাক লাইন থেকে নান্নুর পাসে সার্কেলের উপর থেকে কোনাকুনি হিটে আবাহনীর তৃতীয় গোল করেন মো. ইরফান। কিন্তু আবাহনী যেন ধরে নেয় তারা ম্যাচ জিতেই যাচ্ছে। এর মাঝে মেরিনার্স মনসংযোগ করে পেনাল্টি কর্নার আদায়ের ওপর। আর এরকম একটি পেনাল্টি কর্নারে ৬৪ মিনিটে মামুনুর রহমান চয়ন ব্যবধান ৩-২ করেন। ফজলে হোসেন রাব্বিুর পুশ তৌশিকের স্টপের পর চয়ন গতানুগতিক স্কুপ না করে বিভ্রান্তিতে ফেলেন আবাহনীর ডিফেন্ডারদের। ধীরলয়ের পুশ করেন গোল অভিমুখে। আবাহনীর ডিফেন্ডার আশা করছিলেন ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সেটা আর হয়নি; গোলরক্ষক অসীম গোপও পরাস্ত হন।
এরপরেও ঘুম ভাঙেনি আবাহনীর। মেরিনার্সকে তারা চড়াও হয়ে খেলার সুযোগ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় খেলা শেষের দশ সেকেন্ড আগে সম্মিলিত আক্রমণের পর মাইনুল ইসলাম কৌশিকের পুশ ফাঁকায় পেয়ে যান আরেক উঠতি আরশাদ হোসেন। হাল্কা পুশে বোর্ডে বল পাঠাতে ভুল করেননি এই খেলোয়াড়।
এ ড্রয়ের ফলে আবাহনীর পয়েন্ট দাঁড়ালো চার ম্যাচে দশ। আর মেরিনার্সের সমান ম্যাচে সংগ্রহ সাত। এর আগে মেরিনার্স ৪-১ গোলে ঊষার কাছে হেরেছিল। এই ম্যাচ হারলে শিরোপা দৌড় থেকে অনেক দূরে চলে যেত তারা।
এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে সোনালী ব্যাংক ১১-০ গোলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে হারিয়েছে।
/আরএম/এফআইআর/








